ভাষা আন্দোলনের পটভূমি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা কর
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর রাষ্ট্রভাষা বিতর্ক তীব্র আন্দোলনে রূপ নেয়। বাঙালি জাতির মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন হচ্ছে প্রথম মাইলফলক ও যুগান্তকারী ঘটনা। এ আন্দোলনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষারূপে প্রতিষ্ঠা করা। তবে তা প্রতিষ্ঠা করতে বাঙালিকে অকাতরে বুকের তাজা রক্ত বিলিয়ে দিতে হয়েছে।
![]() |
| ভাষা আন্দোলনের পটভূমি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা কর |
ভাষা আন্দোলনের পটভূমিঃ
দ্বিজাতিতত্ত্ব আর লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সুদীর্ঘ আন্দোলন, সংগ্রাম ও লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে পাকিস্তান রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট। প্রায় দেড় হাজার মাইলের দূরত্বে অবস্থিত পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, খাদ্যাভ্যাসসহ বহু অমিল সত্ত্বেও একমাত্র ধর্মের ভিত্তিতে এক অসম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এর রাষ্ট্রনায়করা প্রথমেই সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মুখের ভাষাকে কেড়ে নিয়ে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষারূপে চাপিয়ে দেওয়ার অপপ্রয়াস চালায়। অথচ বাংলা ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা ও উর্দু ছিল ৩ নং ভাষা। ৫৬% মানুষের মুখের ভাষা বাংলাকে বাদ দিয়ে মাত্র ৭.২% লোকের ভাষা উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠে পাক শাসকচক্র। কিন্তু সুদীর্ঘ সংগ্রামের ঐতিহ্যে লালিত বাঙালি জাতি উর্দুকেই একমাত্র রাষ্ট্রভাষারূপে মেনে নেয় নি। তারা এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়। শুধু তাই নয়, মাতৃভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠার এক আপসহীন সংগ্রাম 'ভাষা আন্দোলনে' অবতীর্ণ হয়, যা ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। ঐদিন যারা বাঁধভাঙা জোয়ারের উত্তাল তরঙ্গে উদ্বেলিত হয় ও রাজপথ রঞ্জিত করে, তারা মাতৃভাষার ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
পরিশেষেঃ
পরিশেষে বলা যায় যে, পাকিস্তানের নেতৃবৃন্দ দেশের বহু ভাষাভাষী লোকদের মধ্যে জাতীয় ঐক্য ও বন্ধন সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলা ভাষাকে বাদ দিয়ে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করতে চেয়েছিল। কিন্তু ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ছাত্ররা সাধারণ ধর্মঘট ও বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল। ছাত্র জনতা ঐদিন ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে অপ্রতিরোধ্য আন্দোলন গড়ে তোলে। এতে পুলিশ তাদের মিছিলে গুলিবর্ষণ করলে শহীদদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়। অবশেষে সরকার বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিতে বাধ্য হয়।
