"ভাষা আন্দোলনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল" ব্যাখ্যা কর
একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের অপরিসীম তাৎপর্য ও গুরুত্ব রয়েছে। এ আন্দোলন শুধু সাংস্কৃতিক আন্দোলন ছিল না; এটা অন্তর্নিহিতভাবে বাঙ্গালিদের রাজনৈতিক স্বাধিকারের আন্দোলনও ছিল।
![]() |
| "ভাষা আন্দোলনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল" ব্যাখ্যা কর |
ভাষা আন্দোলনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল:
১৯৭১ সালে দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামক যে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র স্থান করে নেয় এর মূল সুর নিহিত ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্যে। এজন্য বাংলদেশের আবির্ভাবের মূলে ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব অত্যধিক। কেননা, ভাষা আন্দোলন বাঙালির মনে জাতীয়তাবাদের বীজ বপন করেছিল।
এ আন্দোলন বাঙালিদের নিজস্ব ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি-ঐতিহ্য ও আচার-আচরণ সম্পর্কে সচেতন করে তুলেছিল এবং এসব দিক থেকে যে তারা পশ্চিম পাকিস্তানিদের থেকে সম্পূর্ণ পৃথক এ বোধ জাগ্রত করেছিল। সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিরা এ থেকেই শিক্ষা নিয়েছিল যে সংখ্যা লঘিষ্ঠ পাকদের অধীনে থাকলে তাদের নিজস্ব অস্তিত্ব স্বকীয়তা বিপন্ন হতে বাধ্য। তাই ভাষা আন্দোলনের সূত্র ধরে কালক্রমে ১৯৫৪ এর নির্বাচন, ১৯৬৬ এর ছয়দফা, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচন সর্বোপরি ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের আবির্ভাব ঘটে। তাই এ কথা বলা যায়, ভাষা আন্দোলনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ নিহিত ছিল।
পরিশেষেঃ
পরিশেষে বলা যায় যে, বাংলাদেশের আবির্ভাব ছিল একটি অনিবার্য বাস্তবতা। একদিকে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষ্যমমূলক আচরণ এবং অন্যদিকে বাঙালিদের ইস্পাত কঠিন আন্দোলন পাকিস্তানের ভাঙনকে ত্বরান্বিত করে। অধিকার সচেতন বাঙালিদের স্বাধীনতা আন্দোলন তথা স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন পৃথিবীর ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। পরিশেষে বলা যায় ভাষা আন্দোলনের সূত্র ধরেই ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের আবির্ভাব ঘটে।
