বাগধারা কাকে বলে? ১০০+ বাগধারার অর্থ ও বাক্য রচনা
'বাংলা ভাষার সৌন্দর্য ও প্রকাশক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাগধারার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অল্প কথায় মনের ভাব সুন্দরভাবে প্রকাশ করতে বাগধারা ব্যবহার করা হয়। বাংলা ব্যাকরণ, স্কুল-কলেজের পরীক্ষা, চাকরির পরীক্ষা, বিসিএস, শিক্ষক নিবন্ধন এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা থেকে প্রশ্ন আসতে দেখা যায়।
এই পোস্টে বাগধারা কাকে বলে, বাগধারার বৈশিষ্ট্য, গুরুত্বপূর্ণ বাংলা বাগধারার অর্থ এবং বাক্যে প্রয়োগ উদাহরণসহ আলোচনা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এখান থেকে বাগধারা শিখতে এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারবে।
![]() |
| বাংলা ব্যাকরণের গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা, অর্থ ও বাক্য রচনা। |
বাগধারা কাকে বলে?
বাগধারা হলো এমন বিশেষ শব্দগুচ্ছ, যার অর্থ শব্দগুলোর আক্ষরিক অর্থ থেকে আলাদা বা বিশিষ্ট হয় এবং যা ভাষায় বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে।
সহজভাবে বলা যায়, একাধিক শব্দ একত্রে ব্যবহৃত হয়ে যখন একটি বিশেষ বা প্রচলিত অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে বাগধারা বলে।
উদাহরণ:
১. চোখের মণি: অত্যন্ত প্রিয় ব্যক্তি।
বাক্য: ছোট ছেলেটি তার মায়ের চোখের মণি।
২. আকাশকুসুম: অবাস্তব কল্পনা।
বাক্য: পরিশ্রম না করে রাতারাতি ধনী হওয়ার চিন্তা করা আকাশকুসুম কল্পনা।
৩. মাথায় আকাশ ভেঙে পড়া: আকস্মিকভাবে মহাবিপদে পড়া।
বাক্য: পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার খবর শুনে তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল।
বাগধারার বৈশিষ্ট্য
বাগধারার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—
১. বাগধারা একটি বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে।
২. এর অর্থ অনেক সময় ব্যবহৃত শব্দগুলোর আক্ষরিক অর্থ থেকে আলাদা হয়।
৩. বাগধারা ভাষাকে প্রাণবন্ত, আকর্ষণীয় ও অর্থবহ করে তোলে।
৪. কথাবার্তা ও লেখায় অল্প কথায় গভীর ভাব প্রকাশ করা যায়।
৫. বাগধারার অর্থ ও প্রয়োগ ভাষার প্রচলিত ব্যবহার ও প্রসঙ্গের ওপর নির্ভর করে।
গুরুত্বপূর্ণ বাগধারার অর্থ ও বাক্য রচনা
নিচে বাংলা ভাষায় প্রচলিত গুরুত্বপূর্ণ বাগধারার অর্থ ও বাক্যে প্রয়োগ দেওয়া হলো।
অ থেকে আ
১. অকালকুষ্মাণ্ড (অপদার্থ ব্যক্তি): অপদার্থ ব্যক্তিকে দিয়ে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করা কঠিন।
২. অগস্ত্যযাত্রা (চিরতরে প্রস্থান): রাগ করে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার পর রফিক এমন অগস্ত্যযাত্রা করল যে আর ফিরে এল না।
৩. অন্ধকারে ঢিল ছোড়া (অনুমানের ওপর নির্ভর করে কাজ করা): সঠিক তথ্য না জেনে মন্তব্য করা অন্ধকারে ঢিল ছোড়ার শামিল।
৪. অক্কা পাওয়া (মারা যাওয়া): গল্পটিতে অসুস্থ বৃদ্ধ লোকটির অক্কা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
৫. অরণ্যে রোদন (নিষ্ফল আবেদন): কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার অভিযোগ করেও কোনো ফল না পাওয়ায় তার আবেদন অরণ্যে রোদনে পরিণত হলো।
৬. অমাবস্যার চাঁদ (দুর্লভ দর্শন): চাকরি পাওয়ার পর থেকে রাকিবকে আর দেখা যায় না; সে যেন অমাবস্যার চাঁদ।
৭. অগাধ জলের মাছ (অত্যন্ত ধূর্ত বা চালাক ব্যক্তি): লোকটিকে সহজ মনে হলেও সে অগাধ জলের মাছ।
৮. অহি-নকুল সম্পর্ক (চরম শত্রুতা): জমি নিয়ে বিরোধের কারণে দুই ভাইয়ের মধ্যে অহি-নকুল সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।
৯. আক্কেল সেলামি (বোকামির কারণে পাওয়া শিক্ষা বা ক্ষতি): যাচাই না করে টাকা পাঠিয়ে সে ভালোই আক্কেল সেলামি পেল।
১০. আদা জল খেয়ে লাগা (দৃঢ় সংকল্প নিয়ে কাজে লেগে পড়া): পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য মেয়েটি আদা জল খেয়ে পড়াশোনায় লেগেছে।
আরও পড়ুন: সাধু ও চলিত ভাষা কাকে বলে? সাধু ও চলিত ভাষার মধ্যে পার্থক্য কি?
ই থেকে ও
১১. ইঁচড়ে পাকা (বয়সের তুলনায় বেশি পাকা): ছোট ছেলেটির কথাবার্তা শুনে মনে হয় সে বেশ ইঁচড়ে পাকা।
১২. উড়ো চিঠি (প্রেরকের পরিচয়হীন চিঠি): অফিসে একটি উড়ো চিঠি আসায় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করল।
১৩. উত্তম-মধ্যম (উত্তমভাবে প্রহার): গল্পে চোরটিকে উত্তম-মধ্যম দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
১৪. একাদশে বৃহস্পতি (পরম সৌভাগ্য): একই দিনে চাকরির খবর ও পরীক্ষায় ভালো ফল পেয়ে তার একাদশে বৃহস্পতি অবস্থা হয়েছে।
১৫. একচোখা (পক্ষপাতদুষ্ট): একচোখা বিচার কখনো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।
১৬. ওজন বুঝে চলা (নিজের সামর্থ্য ও অবস্থান বুঝে চলা): ওজন বুঝে চললে অপ্রয়োজনীয় বিপদে পড়তে হয় না।
১৭. ওষুধ ধরা (চিকিৎসা বা ব্যবস্থার ফল পাওয়া): নিয়মিত চিকিৎসায় অবশেষে তার ওষুধ ধরেছে।
ক থেকে খ
১৮. কথার কথা (গুরুত্বহীন বা হালকাভাবে বলা কথা): আমি কথার কথা বলেছিলাম, বিষয়টি নিয়ে এত চিন্তার প্রয়োজন নেই।
১৯. কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের হওয়া (ছোট বিষয় অনুসন্ধান করতে গিয়ে বড় সমস্যা বেরিয়ে আসা): হিসাব পরীক্ষা করতে গিয়ে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের হলো।
২০. কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন (বাস্তবতার সঙ্গে অসংগত নাম বা পরিচয়): যে পড়াশোনায় একেবারেই অমনোযোগী, তার নাম রাখা হয়েছে বিদ্যাসাগর—যেন কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন।
২১. কুম্ভকর্ণের ঘুম (দীর্ঘ ও গভীর ঘুম): দুপুর পর্যন্ত ঘুমিয়ে সে কুম্ভকর্ণের ঘুমের পরিচয় দিল।
২২. কেঁচো গণ্ডুষ (পুরোনো বিষয় নতুন করে শুরু করা): পরীক্ষার আগে সে পুরোনো পড়াগুলো কেঁচে গণ্ডুষ করে নিল।
২৩. খয়ের খাঁ (তোষামোদকারী): খয়ের খাঁদের কারণে অনেক সময় যোগ্য ব্যক্তিরা যথাযথ মূল্যায়ন পান না।
২৪. খুঁটির জোর (প্রভাবশালী ব্যক্তির সমর্থন): খুঁটির জোরে সে অন্যায় করেও পার পেয়ে যাচ্ছিল।
২৫. খড়ের গাদায় সূচ খোঁজা (বিরাট কিছুর মধ্যে অতি ক্ষুদ্র বস্তু খোঁজা): এত কাগজের মধ্যে চিঠিটি খোঁজা খড়ের গাদায় সূচ খোঁজার মতো।
গ থেকে ঘ
২৬. গড্ডালিকা প্রবাহ (অন্যের অন্ধ অনুকরণ): গড্ডালিকা প্রবাহে না ভেসে নিজের বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
২৭. গলগ্রহ (পরের বোঝা): নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা না করলে সে পরিবারের গলগ্রহ হয়ে থাকবে।
২৮. গৌরচন্দ্রিকা (মূল আলোচনার আগে ভূমিকা): দীর্ঘ গৌরচন্দ্রিকা না করে এবার আসল কথায় আসি।
২৯. গোবরে পদ্মফুল (অখ্যাত বা অনুন্নত পরিবেশে অসাধারণ ব্যক্তির আবির্ভাব): প্রত্যন্ত গ্রামের দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়েও সে বিজ্ঞানী হয়েছে; যেন গোবরে পদ্মফুল।
৩০. ঘোড়ার ডিম (অসম্ভব বা অস্তিত্বহীন বস্তু): সারাদিন কাজ না করে ভালো ফলের আশা করা ঘোড়ার ডিম পাওয়ার মতো।
৩১. ঘাটের মড়া (অতি বৃদ্ধ বা জরাজীর্ণ ব্যক্তি): বৃদ্ধ লোকটিকে সবাই ঘাটের মড়া বলে উপহাস করত।
৩২. ঘোড়া রোগ (অস্বাভাবিক বা অতিরিক্ত শখ): অল্প বয়সেই দামি গাড়ি কেনার ঘোড়া রোগ তার হয়েছে।
চ থেকে ছ
৩৩. চোখের বালি (বিরক্তির কারণ): তার অন্যায় আচরণ সহকর্মীদের চোখের বালি হয়ে উঠেছে।
৩৪. চোখে সরষেফুল দেখা (প্রবল বিপদে দিশেহারা হওয়া): কঠিন প্রশ্নপত্র দেখে পরীক্ষার্থীদের চোখে সরষেফুল দেখা শুরু হলো।
৩৫. চাঁদের হাট (আনন্দময় সমাবেশ): ঈদের ছুটিতে আত্মীয়স্বজনের আগমনে বাড়িটি চাঁদের হাট হয়ে উঠেছে।
৩৬. ছাই চাপা আগুন (সুপ্ত প্রতিভা বা প্রচ্ছন্ন শক্তি): শান্ত ছেলেটির মধ্যে ছাই চাপা আগুন রয়েছে।
৩৭. ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি (বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়ার আকুতি): কঠিন কাজটি করতে গিয়ে সে বলল, ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি।
৩৮. ছিনিমিনি খেলা (গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে খামখেয়ালি আচরণ করা): মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা উচিত নয়।
জ থেকে ঝ
৩৯. জল ঘোলা করা (পরিস্থিতি জটিল করা): সামান্য বিষয় নিয়ে জল ঘোলা না করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করো।
৪০. জিলাপির প্যাঁচ (জটিল বা কুটিল কৌশল): তার কথার মধ্যে এত জিলাপির প্যাঁচ যে সহজে বোঝা যায় না।
৪১. জগদ্দল পাথর (ভারী বোঝা বা দুর্বহ সমস্যা): ঋণের বোঝা তার জীবনে জগদ্দল পাথর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৪২. ঝাঁকের কই (একই দলের অন্তর্ভুক্ত বা একই ধরনের): একই দলের সদস্য হওয়ায় সবাইকে ঝাঁকের কই ভাবা ঠিক নয়।
৪৩. ঝোপ বুঝে কোপ মারা (সুযোগ বুঝে কাজ করা): অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরা ঝোপ বুঝে কোপ মারতে জানেন।
ট থেকে ঠ
৪৪. টনক নড়া (সচেতন হওয়া): পরীক্ষায় খারাপ ফল করার পর তার টনক নড়ল।
৪৫. টাকার গরম (অর্থের অহংকার): টাকার গরমে কাউকে অপমান করা উচিত নয়।
৪৬. ঠোঁটকাটা (স্পষ্টভাষী): ঠোঁটকাটা মানুষটি মনের কথা সরাসরি বলে দেয়।
৪৭. ঠাট বজায় রাখা (বাহ্যিক আড়ম্বর বা মর্যাদা বজায় রাখা): সামর্থ্য না থাকলেও ঠাট বজায় রাখতে গিয়ে সে ঋণগ্রস্ত হয়েছে।
ড থেকে ত
৪৮. ডুমুরের ফুল (দুর্লভ বা যার দেখা পাওয়া কঠিন): চাকরি পাওয়ার পর থেকে তাকে দেখা যায় না; সে যেন ডুমুরের ফুল।
৪৯. ঢাক ঢাক গুড় গুড় (কিছু গোপন করার চেষ্টা): বিষয়টি সবার সামনে পরিষ্কার করে বলো, ঢাক ঢাক গুড় গুড় করার দরকার নেই।
৫০. তীর্থের কাক (দীর্ঘ প্রতীক্ষায় থাকা ব্যক্তি): সাহায্যের আশায় দরিদ্র পরিবারটি তীর্থের কাকের মতো বসে আছে।
৫১. তুলসী বনের বাঘ (বাহ্যিকভাবে সাধু, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ভণ্ড): লোকটি বাইরে ধর্মের কথা বলে, কিন্তু কাজে সে তুলসী বনের বাঘ।
৫২. তুষের আগুন (ধীরে ধীরে জ্বলতে থাকা দীর্ঘস্থায়ী ক্ষোভ বা মানসিক যন্ত্রণা): অপমানের স্মৃতি তার মনে তুষের আগুনের মতো জ্বলতে থাকে।
৫৩. থোতা মুখ ভোঁতা হওয়া (গর্ব বা দম্ভ চূর্ণ হওয়া): পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়ে তার থোতা মুখ ভোঁতা হলো।
দ থেকে ধ
৫৪. দহরম-মহরম (অত্যন্ত অন্তরঙ্গ সম্পর্ক): দুই বন্ধুর মধ্যে বেশ দহরম-মহরম রয়েছে।
৫৫. দা-কুমড়া সম্পর্ক (চরম শত্রুতা): সম্পত্তি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে দা-কুমড়া সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।
৫৬. দুধের মাছি (সুসময়ের বন্ধু, যে দুর্দিনে দূরে সরে যায়): বিপদে পড়তেই তার দুধের মাছি বন্ধুদের পরিচয় পাওয়া গেল।
৫৭. দাঁও মারা (সুযোগ নিয়ে লাভ করা): সঠিক সময়ে পণ্য কিনে ব্যবসায়ীটি ভালো দাঁও মেরেছে।
৫৮. ধামাধরা (তোষামোদকারী): ধামাধরাদের ভিড়ে প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদের মূল্যায়ন করা কঠিন।
৫৯. ধরাকে সরা জ্ঞান করা (নিজেকে অত্যন্ত ক্ষমতাবান মনে করা): সামান্য সাফল্য পেয়েই সে ধরাকে সরা জ্ঞান করতে শুরু করেছে।
৬০. ধরি মাছ না ছুঁই পানি (এমনভাবে কাজ করা যাতে দায় এড়ানো যায়): অন্যায়ের প্রতিবাদ না করে সে ধরি মাছ না ছুঁই পানি নীতি অনুসরণ করল।
ন থেকে প
৬১. ননীর পুতুল (অত্যন্ত আদুরে বা কোমল স্বভাবের ব্যক্তি): অতিরিক্ত আদরে ছেলেটি ননীর পুতুল হয়ে উঠেছে।
৬২. নিজের ঢোল নিজে পেটানো (নিজের প্রশংসা নিজে করা): সব সময় নিজের ঢোল নিজে পেটানো ভালো অভ্যাস নয়।
৬৩. নাক উঁচু (অহংকারী): নাক উঁচু স্বভাবের কারণে সে কারও সঙ্গে সহজে মিশতে পারে না।
৬৪. নাক কাটা (সম্মানহানি হওয়া): অসদাচরণের কারণে পরিবারের নাক কাটা গেল।
৬৫. নাকে তেল দিয়ে ঘুমানো (নিশ্চিন্তে থাকা): চারদিকে বিপদ থাকা সত্ত্বেও নাকে তেল দিয়ে ঘুমালে চলবে না।
৬৬. পায়াভারি (অহংকারী): পদোন্নতি পাওয়ার পর তার পায়াভারি স্বভাব আরও বেড়েছে।
৬৭. পুকুরচুরি (বড় ধরনের চুরি বা আত্মসাৎ): প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের ঘটনাটি ছিল একেবারে পুকুরচুরি।
৬৮. পুঁটি মাছের প্রাণ (অতি দুর্বল বা ভীরু ব্যক্তি): সামান্য সমস্যাতেই সে ভয় পায়; একেবারে পুঁটি মাছের প্রাণ।
৬৯. পাকা ধানে মই দেওয়া (প্রায় সম্পন্ন কাজ নষ্ট করা): শেষ মুহূর্তে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে সে পাকা ধানে মই দিল।
৭০. পেটে পেটে (মনে মনে বা গোপনে): সে বাইরে কিছু না বললেও পেটে পেটে অনেক পরিকল্পনা করছে।
ফ থেকে ব
৭১. ফেঁপে ওঠা (সম্পদ বা প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়া): ব্যবসায় সফল হয়ে অল্প সময়ে তার সম্পদ ফেঁপে উঠেছে।
৭২. ফাঁদে পা দেওয়া (প্রতারণার শিকার হওয়া): অপরিচিত ব্যক্তির কথায় বিশ্বাস করে সে ফাঁদে পা দিল।
৭৩. বকধার্মিক (ধর্মের ভান করে এমন ব্যক্তি): বকধার্মিক ব্যক্তির কথার চেয়ে কাজের দিকে নজর দেওয়া উচিত।
৭৪. বালির বাঁধ (দুর্বল ও অস্থায়ী ভিত্তি): সততা ছাড়া গড়ে ওঠা সম্পর্ক বালির বাঁধের মতো।
৭৫. বিড়াল তপস্বী (ভণ্ড সাধু বা ছদ্মবেশী ব্যক্তি): লোকটি সাধুর বেশে থাকলেও তার আচরণ বিড়াল তপস্বীর মতো।
৭৬. ভেজা বিড়াল (ভয়ে বা চাপে নরম হয়ে যাওয়া ব্যক্তি): শিক্ষকের সামনে দুষ্ট ছেলেটি একেবারে ভেজা বিড়াল হয়ে গেল।
৭৭. মাকাল ফল (বাহ্যিকভাবে আকর্ষণীয় কিন্তু গুণহীন বস্তু বা ব্যক্তি): চাকচিক্যময় বিজ্ঞাপন দেখে পণ্যটি কিনে বুঝলাম, এটি মাকাল ফল।
৭৮. মগের মুল্লুক (অরাজকতা বা যথেচ্ছাচারের অবস্থা): অফিসে নিয়মকানুন না থাকায় সেখানে মগের মুল্লুকের অবস্থা তৈরি হয়েছে।
৭৯. মিছরির ছুরি (মিষ্টি কথার আড়ালে ক্ষতিকর মনোভাব): তার মিষ্টি কথায় ভুলে যেয়ো না; সে মিছরির ছুরি হতে পারে।
৮০. যমের দোসর (ভয়ংকর বা অত্যন্ত নিষ্ঠুর ব্যক্তি): নিষ্ঠুর লোকটিকে গ্রামের মানুষ যমের দোসর বলে মনে করে।
র থেকে হ
৮১. রগচটা (অল্পতেই রেগে যায় এমন ব্যক্তি): রগচটা স্বভাবের কারণে সে প্রায়ই বন্ধুদের সঙ্গে ঝগড়া করে।
৮২. রাবণের চিতা (দীর্ঘস্থায়ী দুঃখ বা জ্বালা): প্রিয়জনকে হারানোর বেদনা তার মনে রাবণের চিতার মতো জ্বলছে।
৮৩. লেফাফা দুরস্ত (বাহ্যিক সাজসজ্জায় পরিপাটি): লোকটি লেফাফা দুরস্ত হলেও কাজে তেমন দক্ষ নয়।
৮৪. লালবাতি জ্বলা (বিপদ বা ব্যবসায় অবনতির সংকেত দেখা দেওয়া): লোকসান বাড়তে থাকায় ব্যবসাটিতে লালবাতি জ্বলার অবস্থা হয়েছে।
৮৫. শাপে বর (অমঙ্গল থেকে মঙ্গল হওয়া): চাকরিটি না পাওয়ায় সে প্রথমে দুঃখ পেয়েছিল, কিন্তু পরে আরও ভালো চাকরি পেয়ে বুঝল, ঘটনাটি তার জন্য শাপে বর হয়েছে।
৮৬. শাঁখের করাত (উভয় সংকট): একদিকে চাকরি, অন্যদিকে পরিবারের অসুস্থ সদস্য—দুই দিক সামলাতে গিয়ে সে শাঁখের করাতের মধ্যে পড়েছে।
৮৭. শিরে সংক্রান্তি (আসন্ন বিপদ): ঋণ পরিশোধের সময় ঘনিয়ে আসায় তার শিরে সংক্রান্তি অবস্থা হয়েছে।
৮৮. শনির দশা (দুর্ভাগ্য বা বিপদের সময়): কয়েক দিন ধরে একের পর এক সমস্যায় পড়ে মনে হচ্ছে তার শনির দশা চলছে।
৮৯. ষোল আনা (সম্পূর্ণ বা পুরোপুরি): কাজটি ষোল আনা সফল হয়েছে।
৯০. সাক্ষী গোপাল (নিষ্ক্রিয় দর্শক): অন্যায় হতে দেখেও সে সাক্ষী গোপালের মতো দাঁড়িয়ে রইল।
৯১. সাপে-নেউলে সম্পর্ক (প্রচণ্ড শত্রুতা): জমি নিয়ে বিরোধের পর থেকে দুই পরিবারের মধ্যে সাপে-নেউলে সম্পর্ক।
৯২. সোনার পাথরবাটি (অসম্ভব বা অবাস্তব বস্তু): কোনো পরিশ্রম ছাড়া সাফল্য পাওয়ার আশা করা সোনার পাথরবাটির মতো।
৯৩. হাতের পাঁচ (শেষ সম্বল): বিপদের সময় সঞ্চিত টাকাই তার হাতের পাঁচ হয়ে দাঁড়াল।
৯৪. হ-য-ব-র-ল (বিশৃঙ্খল অবস্থা): এলোমেলোভাবে লেখার কারণে পুরো উত্তরটি হ-য-ব-র-ল হয়ে গেছে।
৯৫. হাতটান (চুরি করার প্রবণতা): হাতটানের অভ্যাস থাকায় কেউ তাকে বিশ্বাস করতে চায় না।
৯৬. হাটে হাঁড়ি ভাঙা (গোপন কথা প্রকাশ করা): সবার সামনে হাটে হাঁড়ি ভেঙে দেওয়ায় সে বিব্রত হলো।
আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাগধারা
৯৭. আকাশকুসুম (অবাস্তব কল্পনা): কোনো প্রস্তুতি ছাড়া প্রথম হওয়ার আশা করা আকাশকুসুম কল্পনা।
৯৮. গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল (কাজ হওয়ার আগেই আনন্দ বা প্রস্তুতি): চাকরির পরীক্ষায় পাস করার আগেই উৎসবের আয়োজন করে সে গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল দিচ্ছে।
৯৯. গাছে তুলে মই কেড়ে নেওয়া (কাজে উৎসাহিত করে বিপদে ফেলে দেওয়া): ব্যবসায় অংশীদার হওয়ার জন্য উৎসাহিত করে পরে টাকা না দিয়ে সে গাছে তুলে মই কেড়ে নিল।
১০০. এক ঢিলে দুই পাখি মারা (এক কাজে দুই উদ্দেশ্য পূরণ করা): বাজারে যাওয়ার পথে বই কিনে সে এক ঢিলে দুই পাখি মারল।
১০১. কপাল পোড়া (দুর্ভাগা): বারবার সুযোগ হারিয়ে লোকটি নিজেকে কপাল পোড়া মনে করছে।
১০২. খাল কেটে কুমির আনা (নিজেই বিপদ ডেকে আনা): অপরিচিত লোকটিকে বাড়িতে আশ্রয় দিয়ে সে খাল কেটে কুমির আনল।
১০৩. চুনোপুঁটি (তুচ্ছ বা কম ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি): বড় দুর্নীতিবাজদের বাদ দিয়ে শুধু চুনোপুঁটিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে চলবে না।
১০৪. ডান হাত (বিশ্বস্ত প্রধান সহকারী): রহিম দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের ডান হাত হিসেবে কাজ করছে।
১০৫. নুন আনতে পান্তা ফুরায় (চরম দারিদ্র্য): দিনমজুর পরিবারটির অবস্থা এমন যে নুন আনতে পান্তা ফুরায়।
১০৬. পটল তোলা (মারা যাওয়া): গল্পের বৃদ্ধ চরিত্রটি শেষ পর্যন্ত পটল তুলল।
১০৭. বামন হয়ে চাঁদে হাত (নিজের সামর্থ্যের বাইরে উচ্চাকাঙ্ক্ষা করা): প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন না করে বড় পদ পাওয়ার চেষ্টা করা বামন হয়ে চাঁদে হাত দেওয়ার মতো।
১০৮. মাথায় হাত পড়া (বিপদে দিশেহারা হওয়া): ব্যবসায় বড় লোকসান হওয়ায় তার মাথায় হাত পড়েছে।
১০৯. মুখে কুলুপ আঁটা (চুপ থাকা): ঘটনার সত্যতা জানলেও সাক্ষীটি মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে।
১১০. রক্তচক্ষু (ভয় দেখানো বা কঠোর হুমকি): অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তাকে রক্তচক্ষু দেখানো হলো।
১১১. লেজে গোবরে (কাজকর্মে গোলমাল বা বিশৃঙ্খলা): পরিকল্পনা ছাড়া কাজ শুরু করায় পুরো আয়োজন লেজে গোবরে হয়ে গেল।
১১২. সোনায় সোহাগা (ভালো কিছুর সঙ্গে আরও ভালো কিছু যুক্ত হওয়া): ভালো ফলের সঙ্গে বৃত্তি পাওয়া তার জন্য সোনায় সোহাগা হলো।
১১৩. হাতে চাঁদ পাওয়া (অপ্রত্যাশিতভাবে দুর্লভ বা মূল্যবান কিছু পাওয়া): বহুদিনের খোঁজের পর বইটি পেয়ে সে হাতে চাঁদ পেল।
আরও পড়ুন: প্রবাদ বাক্য কি? প্রবাদ বাক্যের উদ্ভব ও ব্যবহার
১১৪. হাত গুটিয়ে বসে থাকা (নিষ্ক্রিয় থাকা): বেকারত্বের সমস্যা সমাধানে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না।
১১৫. রক্তের সম্পর্ক (আত্মীয়তার সম্পর্ক): বিপদের সময় রক্তের সম্পর্কের মূল্য বোঝা যায়।
বাগধারা দিয়ে বাক্য রচনা করার নিয়ম
বাগধারা দিয়ে বাক্য রচনা করার সময় কয়েকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি।
১. বাগধারার সঠিক অর্থ জানতে হবে। অর্থ না বুঝে বাক্য তৈরি করলে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
২. প্রসঙ্গ অনুযায়ী বাগধারা ব্যবহার করতে হবে। যেমন, ‘মাথায় আকাশ ভেঙে পড়া’ বলতে আকস্মিক বড় বিপদে পড়া বোঝায়।
৩. বাক্যের অর্থ স্পষ্ট হতে হবে। বাগধারা ব্যবহারের ফলে বাক্যটি যেন স্বাভাবিক ও অর্থবহ হয়।
৪. বাগধারার প্রচলিত রূপ বজায় রাখতে হবে। অপ্রয়োজনীয়ভাবে শব্দ পরিবর্তন করলে বাগধারার অর্থ বা পরিচিতি নষ্ট হতে পারে।
৫. পরীক্ষার খাতায় সংক্ষিপ্ত ও নির্ভুল বাক্য লিখতে হবে। এতে পরীক্ষক সহজেই বাগধারার সঠিক প্রয়োগ বুঝতে পারবেন।
বাগধারা সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
১. বাগধারা কাকে বলে?
যে বিশেষ শব্দগুচ্ছ প্রচলিত অর্থে ব্যবহৃত হয়ে আক্ষরিক অর্থের বাইরে একটি বিশেষ ভাব প্রকাশ করে, তাকে বাগধারা বলে।
২. বাগধারার প্রধান কাজ কী?
বাগধারার প্রধান কাজ হলো অল্প কথায় বিশেষ ভাব প্রকাশ করা এবং ভাষাকে আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত করে তোলা।
৩. বাগধারা ও প্রবাদ কি একই?
না। বাগধারা ও প্রবাদ এক নয়। বাগধারা সাধারণত বাক্যের একটি অংশ হিসেবে বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে। অন্যদিকে, প্রবাদ সাধারণত অভিজ্ঞতালব্ধ শিক্ষা, উপদেশ বা লোকজ জ্ঞান প্রকাশকারী প্রচলিত বাক্য।
৪. বাগধারা কেন শেখা প্রয়োজন?
বাংলা ভাষায় দক্ষতা অর্জন, সৃজনশীল লেখা, অনুচ্ছেদ রচনা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বাগধারা শেখা গুরুত্বপূর্ণ।
৫. বাগধারা থেকে কোন কোন পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে?
স্কুল-কলেজের বাংলা পরীক্ষা, বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা, বিসিএস, শিক্ষক নিবন্ধন এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বাগধারা থেকে প্রশ্ন আসতে পারে। তবে পরীক্ষাভেদে প্রশ্নের ধরন ও গুরুত্ব আলাদা হয়।
উপসংহার
বাগধারা বাংলা ভাষার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বাগধারার অর্থ জানা এবং সঠিকভাবে বাক্যে প্রয়োগ করার মাধ্যমে ভাষার দক্ষতা বৃদ্ধি করা যায়। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি চাকরিপ্রার্থীদেরও গুরুত্বপূর্ণ বাগধারার অর্থ ও বাক্য রচনা অনুশীলন করা উচিত।
এই পোস্টে বাংলা ভাষায় প্রচলিত ১১৫টি গুরুত্বপূর্ণ বাগধারার অর্থ ও বাক্যে প্রয়োগ তুলে ধরা হয়েছে। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে এগুলো মনে রাখা এবং পরীক্ষায় সঠিকভাবে ব্যবহার করা সহজ হবে।
