বাংলাদেশের গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোর বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা
অথবা,
বাংলাদেশের গ্রামীণ ক্ষমতা বিন্যাসের প্রকৃতি বা স্বরূপ আলোচনা কর।
![]() |
| বাংলাদেশের গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোর বৈশিষ্ট্যগুলো আলোচনা |
গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোর বৈশিষ্ট্য:
বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেকোনো দেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা কাঠামোকে মার্কসীয় এবং ম্যাক্স ওয়েবারীয় বিভিন্ন ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে আলোচনা করা যায়। বাংলাদেশের গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামো একটি সুনির্দিষ্ট ধারায় আবর্তিত হয়। কার্ল মার্কসের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী একটি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ গ্রামীণ জনগণের মধ্যকার সামাজিক, পারিবারিক, অর্থনৈতিক বিভিন্ন কার্যাবলিতে বিভিন্ন সামাজিক শ্রেণির ভূমিকাই গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামো, অন্যদিকে ম্যাক্স ওয়েবারের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামো হলো উৎপাদন যন্ত্র, প্রশাসন ও বিচার ব্যবস্থার মাধ্যম কর্তৃক প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া। বাংলাদেশের গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোর বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
১. প্রভাবশালী গ্রামীণ ব্যক্তিবর্গ:
বাংলাদেশের গ্রামীণ কাঠামোর অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন পরিকল্পনা ও নিয়মনীতি গ্রামীণ প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ নিয়ন্ত্রণ ও নির্ধারণ করে থাকে। গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামো মূলত একটি গতিশীল প্রক্রিয়া এব দিয়ে সমাজে বিভিন্ন ধরনের উপাদানকে অন্তর্ভুক্ত করা গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামো বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিত উত্তর ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণের উন্নয়নের জন্য কাজ করে থাকে। আর এ উন্নয়ন ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয় সাধারণ গ্রামীণ জনগণের জীবনে এসব প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে।
২. রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ততা:
বর্তমান গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামো বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যকার সম্পর্কের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকে। গ্রামীণ রাজনীতি ঠিক একইভাবে এসব বিভিন্ন আমীণ ক্ষমতা কাঠামোভিত্তিক উপাদানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে থাকে। গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামো বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিবর্গের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার কারণে গ্রামীণ কৃষির উন্নয়নের পাশাপাশি আজ্ঞালিক প্রভাব যা কৃষির জন্য সম্ভাবনাময়তা নিশ্চিত করে। তাছাড়া কৃষিকে অন্তর্ভুক্ত করার মধ্য দিয়ে সাধারণ গ্রামীণ জনগণ তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাধনে সক্ষম।
৩. মহাজনী ব্যবস্থা:
বাংলাদেশের গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামো এখনও মহাজনী প্রতিষ্ঠান নয় যদিও এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক উপাদান রয়েছে। গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামো বিভিন্ন সময়ে গ্রামীণ রাজনীতির সাথে অন্তর্ভুক্ত হলেও গ্রামীণ মহাজনী ব্যবস্থা থেকে এটি এখনও মুক্ত হতে পারেনি। গ্রামীণ মহাজনী ব্যবস্থা একটি প্রাচীন গ্রামীণ অপ্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা কাঠামো হলেও এটি মূলত বর্তমান গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। গ্রামীণ এ মহাজনী ব্যবস্থা সাধারণ গ্রামীণ জনগণকে শোষণের মাধ্যমে ব্যাপক সম্পদের মালিক হয়ে থাকে।
৪. স্থানীয় সরকার:
বাংলাদেশের গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোর অভ্যন্তরে প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন ধরনের নেতৃত্ব ও ক্ষমতা লক্ষ করা যায়। তাহলে এ ধরনের কাঠামো সাধারণ জনগণকে প্রভাবিত করতে পারে। গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোর অন্তর্গত এ প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা কাঠামো, যেমন- স্থানীয় সরকারের জেলা প্রশাসন, স্থানীয় পুলিশ গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদ বাংলাদেশের গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামো যুগ যুগ ধরে সাধারণ জনগণের উন্নয়ন সাধনের জন্য গ্রামীণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো মাধ্যমে ভূমিকা পালন করে থাকে। স্থানীয় গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামো তাই গ্রামীণ জনগণের জীবন সরাসরি প্রভাবিত করে।
৫. বংশগত প্রভাব:
বাংলাদেশের গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো সাধারণ গ্রামীণ জনগণের জীবনে বিভিন্ন বংশগত গোষ্ঠীর প্রভাব। বাংলাদেশের গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামো একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিভিন্ন বংশভিত্তিক গোষ্ঠীর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকে। গ্রামীণ এসব ক্ষমতা কাঠামো সাধারণ গ্রামীণ গ্রামীণ জীবন বিভিন্ন বংশগত গোষ্ঠীর দ্বারা অনেক আগে থেকেই জনগণের জীবনের বিভিন্ন দিককে প্রভাবিত করে থাকে। বস্তুত প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়ে আসছে। গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোর একটি অপ্রাতিষ্ঠানিক দিক হিসেবে গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। বংশগত এ গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন পরিবর্তন ও স্থায়িত্ব সূচিত কর।
৮. গ্রাম সালিশ:
গ্রামীণ সমাজে স্বল্প খরচে, স্বল্প সময়ে অনেকটা অনানুষ্ঠানিকভাবে বিচারকার্য সমাধান করার প্রক্রিয়াকে সাধারণ জনগণ গ্রহণ করে থাকে। গ্রাম সালিশের মাধ্যমে এ ধরনের বিচারকার্য পরিচালনা করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন সময়ে গ্রাম সালিশের বিচার পক্ষপাতমূলক হওয়ার কারণে অথবা বিচারে কোন একটি গোষ্ঠী অসন্তুষ্ট হলে তা গ্রামীণ এলাকায় সংঘর্ষ ও সংঘাত সৃষ্টি করে। গ্রামীণ এ সংঘাত সামাজিক প্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে।
৯. সম্মান ও মর্যাদা:
বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজে বিভিন্ন ধরনের লোকাচার, লোকরীতি, আচার-অনুষ্ঠান ও সংস্কৃতি থাকে এসব বিভিন্ন সংস্কৃতি গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোর অভ্যন্তরে সামাজিক মর্যাদা ও সম্মানের সংস্কৃতি তৈরি করে। গ্রামীণ এ মর্যাদা ও আনুগত্যের যে সম্পর্ক তা পরিবার থেকে গোষ্ঠী এবং গোষ্ঠী থেকে সমাজের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। কোন ক্ষেত্রে এ সম্মান ও মর্যাদার সম্পর্ক যদি সাধারণ জনগণের মাধ্যমে কিংবা অন্য কোন কারণে ভেঙে যায় তাহলে তার দ্বারা গ্রামীণ কোন্দল দেখা দিতে পারে। গ্রামীণ বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রধান, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ক্ষমতাবান কিংবা অন্য কোন প্রভাবশালী ব্যক্তি সমাজে তাদের সম্মান বা মর্যাদায় আঘাত পেলে গ্রামীণ কোন্দলের সূত্রপাত হয়।
১০. সরকারি সাহায্যের বণ্টন:
দেশের গ্রামীণ এলাকার উন্নয়ন সাধনের জন্য সরকার কর্তৃক বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশের গ্রামীণ জনগণের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও সাহায্য প্রদান করা হয়ে থাকে। আর এসব বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা দেশের সাধারণ জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য অতি প্রয়োজনীয়। কিন্তু এসব বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা দেশের গ্রামীণ প্রত্যন্ত অঞ্চলে যদি সাধারণ জনগণের মধ্যে সমভাবে বণ্টন করা না হয় তবে এর ফলে সাধারণ জনগণের জীবন ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হতে পারে। তাছাড়া গ্রামীণ ও সাহায্যের অসমবন্টন সাধারণ জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে। গ্রামীণ এ বিভেদ থেকে অনেক সময় রক্তক্ষয়ী কোন্দল দেখা দিতে পারে।
১১. গ্রাম সালিশ:
দেশের গ্রামীণ প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিচারকার্য সম্পাদন করার জন্য গ্রাম সালিশ একটি অপ্রাতিষ্ঠানিক গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামো হিসেবে আবর্তিত হয়। বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অন্যায় অত্যাচার, যেমন- ধর্ষণ, জমির মালিকানা সংক্রান্ত সমস্যা, বিবাহবিচ্ছেদ, পারিবারিক সমস্যা প্রভৃতি স্বল্প খরচে ও কম সময়ে সমাধান করার জন্য গ্রাম সালিশের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু বিভিন্ন ক্ষেত্রে গ্রাম সালিশ কর্তৃক প্রদত্ত বিভিন্ন রায় দেশের গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। গ্রামীণ সালিশের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত যদি পক্ষপাতমূলক, অন্যায় বা নিরপেক্ষতা বর্জিত হয়ে থাকে তবে তাকে ঘিরে সাধারণ গ্রামীণ জনগণের মধ্যে নানা কোন্দল দেখা দিতে পারে।
১২. স্থানীয় নির্বাচন:
গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোর অভ্যন্তরে বিভিন্ন ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, যেমন- জেলা প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ, জেলা আদালত প্রভৃতি প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা কাঠামো হিসেবে আবর্তিত হয়। গ্রামীণ অপ্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা কাঠামো থেকে এটি আলাদা। প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা কাঠামোর অভ্যন্তরে স্থানীয় বিভিন্ন সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন বর্তমান। সময়ে গ্রামীণ কোন্দলের একটি অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রামীণ স্থানীয় নির্বাচনে বিভিন্ন প্রতিনিধিকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ জনগণ নিজেদের মধ্যে বিভাজিত হয়ে যায়। আর এর ফলে তারা বিভিন্ন কোন্দল, দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়ে গ্রামীণ ঐক্য বিনষ্ট করে।
১৩. রাজনৈতিক দল:
বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের নগর, গ্রামীণ সকল ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ব্যবস্থা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কোন না কোন রাজনৈতিক দল ব্যবস্থার সাথে জড়িয়ে ফেলছে। আর এর ফলে গ্রামীণ জনগণের মধ্যে অধিকাংশই নিজেদের এ কারণে বিভিন্ন গ্রামীণ সামাজিক গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের মাঝে বিভেদ দেখা দেয়। এ বিভেদের ফলে গ্রামীণ ঐক্য বিনষ্ট হয় এবং সাধারণ জনগণ তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে রুদ্ধ করে থাকে। গ্রামীণ অর্থনীতির একটি বড় অংশ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। তাছাড়া গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোর অভ্যন্তরে নিজেদের অবস্থানকে আরো বেশি শক্তিশালী করার জন্য তারা এ কোন্দলে বিভিন্ন সময়ে উস্কানি দেয়।
১৪. স্থানীয় সরকারের অবহেলা:
গ্রামীণ বিভিন্ন সরকারে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য সরকারের পক্ষে কাজ করে থাকে। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে এসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ জনগণের মধ্যকার বিভিন্ন অসংগতি দূর করতে ব্যর্থ হয়। আর এর ফলে গ্রামীণ জনগণের মধ্যে কোন্দল দানা বেঁধে উঠতে থাকে। গ্রামীণ সাধারণ জনগণ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক বিষয় বিভ্রান্ত বলে তা দূর করার দায়িত্ব তাদের অভিভাবক হিসেবে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো এসব দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে সাধারণ জনগণের মধ্যে কোন্দল দেখা দিতে পারে যার ফলে তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ব্যাহত হতে পারে।
১৫. শিক্ষার অভাব:
বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদের অধিকাংশ জনগণ এখনও স্বল্প শিক্ষিত বা অশিক্ষিত রয়ে গেছে। এর ফলে তারা তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যর্থ হচ্ছে। তাছাড়া তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এখনও সংকীর্ণ ও আড়ষ্ট রয়ে গেছে। সামাজিক নানা সমস্যার প্রতি তাদের এই দৃষ্টিভঙ্গি গ্রামীণ সমাজে বিভিন্ন কোন্দল ও দ্বন্দ্বের জন্ম দিতে পারে। তাছাড়া শিক্ষার প্রসার দ্বারা একজন মানুষ সামাজিক বিভিন্ন সমস্যা অনুধাবন ও তার সমাধানের পথ বের করতে পারে না। গ্রামীণ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাধন ও এর সার্থকতার জন্য শিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম। শিক্ষার অভাবে সাধারণ গ্রামীণ জনগণ বিভিন্ন ধরনের দ্বন্দ্ব সংঘাতে মেতে উঠে।
শেষ কথাঃ
পরিশেষে বলা যায় যে, গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোর অভ্যন্তরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দ্বারা সামাজিক অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলা গ্রামীণ কোন্দলের জন্ম দেয়। গ্রামীণ এসব দ্বন্দ্ব সংঘাত উন্নয়নের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা। তাছাড়া গ্রামীণ সমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাধনের জন্য গ্রামীণ এসব দ্বন্দ্ব সংঘাত সামাজিক বৈষম্য ও তার সাম্যহীনতা তৈরি করে থাকে। গ্রামীণ বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতৃত্ব জনগণের মধ্যকার দ্বন্দ্ব, সামাজিক অবক্ষয়সহ নানা কারণে গ্রামীণ সমাজে দ্বন্দ্ব, সংঘাত দেখা দিতে পারে। গ্রামীণ জনগণের মধ্যে সামাজিক ঐক্য গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। আর এর অভাবে গ্রামীণ দ্বন্দ্ব সংঘাত দেখা দিতে পারে যা গ্রামীণ জনজীবনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করে থাকে।
