নেতৃত্ব বলতে কি বুঝ? গ্রামীণ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয় গুণাবলি আলোচনা কর

নেতৃত্ব কাকে বলে? নেতৃত্বের প্রয়োজনীয় গুণাবলি ব্যাখ্যা কর।

অথবা, 

নেতৃত্বের সংজ্ঞা দাও। নেতৃত্বের গুণাবলি সমূহ বর্ণনা কর।



ভূমিকাঃ নৃেতৃত্ব একটি গতিশীল ও চলমান প্রক্রিয়া। নেতৃত্ব হলো নেতার গুণাবলি আর এ কারণে বর্তমান সময়ে নেতৃত্ব বিষয়ক আলোচনা সমালোচনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নেতৃত্ব মূলত কোন একটি ব্যক্তি বা দলকে বোঝায় যারা তাদের যোগ্যতা ও কর্ম প্রচেষ্টা দ্বারা সমাজের অভ্যন্তরে সাধারণ জনগণের জন্য কোন নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌছানোতে সহায়তা করে। এভাবে নিজ যোগ্যতা ও কর্ম প্রচেষ্টার দ্বারা কোন একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজ লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়া কতটা সম্ভব তার উপর নেতৃত্বের সফলতা নির্ভর করে। তাছাড়া নেতৃত্ব একটি সমাজে ব্যক্তির সহজাত প্রবৃত্তির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠে।

নেতৃত্ব বলতে কি বুঝ? গ্রামীণ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয় গুণাবলি আলোচনা কর
নেতৃত্ব বলতে কি বুঝ? গ্রামীণ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয় গুণাবলি আলোচনা কর

প্রামাণ্য সংজ্ঞা: 

রাষ্ট্র বা সমাজ কিংবা অন্য যে কোন জনগোষ্ঠী একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে নেতৃত্ব কাজ করে। নেতৃত্বের যে সংজ্ঞাগুলো আছে সেগুলো নিম্নরূপ:

  • অধ্যাপক মিলার (Miller) এর মতে, "আত্মসংযম, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা, সততার উপর ভিত্তি করে গঠিত মানবিক গুণ যা জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করে তাকে নেতৃত্ব বলে।"
  • অধ্যাপক মিশেলস (Michels) বলেন, "কোন নির্দিষ্ট ইচ্ছাশক্তির দ্বারা ধাবিত হয়ে কোন একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে পরিচালিত করার ক্ষমতাকে নেতৃত্ব বলে।"
  • সি. আই. বার্নাড বলেন, "নেতৃত্ব হলো ব্যক্তিমণ্ডলীর এমন গুণাবলির সমষ্টি যার মাধ্যমে তারা সংগঠিত কর্মোদ্যোগে জনগণদের অথবা তাদের কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা প্রদান করে থাকেন। নেতৃত্ব হলো এক ব্যক্তি বা একদল ব্যক্তির সেই কাম্যগুণ বা গুণের সমষ্টি যা সমাজের ইন্সিত লক্ষ্যার্জনের জন্য অন্যদের উদ্দীপ্ত করে।"

  • বার্ট্রান্ড রাসেল (Bertrand Rassel) বলেন, "আত্মশিক্ষা, আত্মবিশ্বাস, দক্ষতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে জনকল্যাণ সাধনের মানবিক গুণই হলো নেতৃত্ব।"
  • এইচ. ও. ডানেল (H. O. Dunel) এর মতে, "সাধারণ লক্ষ্যার্জনের জন্য জনগণকে সহযোগী হতে প্ররোচিত ও উদ্যোগী করার কাজকেই নেতৃত্ব বলে।"
  • কিম্বল ইয়ং (Kimbol Young) বলেন, "নেতৃত্ব হলো ব্যক্তির সেই গুণাবলি যার মাধ্যমে সে অন্যের কর্মধারা প্রভাবিত করে এবং অন্য সবার উপর আধিপত্য বিস্তার করে।"
  • এলভিন, ডব্লিউ, গোল্ডনার (Alvin. W. Gouldner) এর মতে, "নেতৃত্ব ব্যক্তি বা জনের সেই নৈতিক গুণাবলি, যা অন্যদের অনুপ্রেরণা দিয়ে বিশেষ দিকে ধাবিত করে।"
  • New World Encyclopedia-মোতাবেক, “নেতৃত্ব হলো সেই সকল গুণগুলোর মধ্যে অন্যতম গুণ বা বৈশিষ্ট্য ধারণকারী গুণ, যা ব্যক্তিবিশেষের মধ্যে বিদ্যমান থাকে এবং কোন প্রতিষ্ঠান, জনগোষ্ঠীকে প্রভাবিত করতে পারে।"

আলোচনায় বলা যায় যে, নেতৃত্ব একটি গতিশীল সামাজিক প্রক্রিয়া। বস্তুত সমাজ বা রাষ্ট্রীয় জীবনের কোন লক্ষ্য যোগ্য নেতৃত্ব ছাড়া অর্জন করা সম্ভব নয়। নেতৃত্ব সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম চাবিকাঠি। এর দ্বারা সমাজের সাধারণ জনগণদের একটি নির্দিষ্ট ধারায় পরিচালনা করা সম্ভব। নেতৃত্ব সমাজ বা রাষ্ট্রীয় পরিমণ্ডলে সাধারণ মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি থেকে পরিচালিত হয়। বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্প্রসারণে নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

নেতৃত্বের প্রয়োজনীয় গুণাবলি: 

কোন ব্যক্তির মাঝে নেতৃত্বের গুণাবলি থাকলেই কেবল সে নেতা বলে পরিগণিত হতে পারে। কল্যাণমূলক ও যোগ্য নেতৃত্বের জন্য প্রয়োজনীয় গুণাবলি নিম্নরূপ :

১. ব্যক্তিত্ব: 

নেতৃত্বের অপরিহার্য গুণ হলো ব্যক্তিত্ব। চারিত্রিক মাধুর্য, নমনীয়তা, তেজস্বিতা, চারিত্রিক উৎকর্ষতা প্রভৃতির মধ্য দিয়ে ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে। আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বই নেতৃত্বের পদে আসীন হতে সাহায্য করে। নেতাকে তাই অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী হতে হয়। তাছাড়া সুন্দর ব্যক্তিত্ব সাধারণ মানুষকে আকর্ষণ করে। সুন্দর ব্যক্তিত্বের অধিকারী মানুষের সাথে সাধারণ মানুষের সুসম্পর্ক গড়ে উঠে। আর এর ফলে রাজনীতি ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আসে। আর এসব কারণে নেতা হওয়ার জন্য অথবা নেতৃত্ব অনুশীলন করার জন্য তাই সুন্দর ব্যক্তিত্বের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

২. সুশিক্ষা: 

নেতৃত্বকে কিছু অপরিহার্য গুণাবলি, যেমন-গভীর জ্ঞান ও সুশিক্ষা থেকে আলাদা করে ভাবা যায় না। আর এ কারণে নেতৃত্বে দিতে গেলে কোন ব্যক্তিকে বিভিন্ন বিষয়ে গভীর জ্ঞান বা প্রজ্ঞার অধিকারী হতে হবে। গভীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অধিকারী না হলে নেতৃত্ব ব্যর্থ হতে বাধ্য। নেতৃত্ব এর পথে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে। কেননা শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। নেতৃত্ব অশিক্ষিত হলে সরকারে বিভিন্ন আইন-কানুন, নিয়মনীতি সম্পর্কে সাধারণ জনগণকে অবগত করতে ব্যর্থ হবে।

৩. দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হওয়া: 

যোগ্য ও কল্যাণমূলক নেতৃত্বের অন্যতম গুণ হলো দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হওয়া বা তা অর্জন করা। জাতীয় যুগ-সন্ধিক্ষণে নেতার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রজ্ঞা ও দূরদৃষ্টি সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করে। দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সঠিক নেতৃত্বের ফলে জাতি দিকভ্রষ্ট হয় না বা ভুল সিদ্ধান্তের আবর্তে আবর্তিত হয় না। নেতৃত্ব দূরদৃষ্টিসম্পন্ন হলে তারা সাধারণের জন্য কল্যাণ নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে। তাছাড়া দূরদৃষ্টিতার অভাবে সামাজিক সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলাও দেখা দিতে পারে যা কারোরই কাম্য নয়।

৪. সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা:

যোগ্য নেতৃত্বের একটি অন্যতম অত্যাবশ্যকীয় গুণ হলো সমাজের সংকটপূর্ণ মুহূর্তে দ্রুত বিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষমতা। দ্বন্দ্ব-সংঘাত বা সামাজিক বিশৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষমতা যোগ্য নেতৃত্বের জন্য আবশ্যক। আর এ কারণে যোগ্য নেতৃত্ব কখনও হতাশ হয়ে পড়েন না কিংবা সামাজিক বিভিন্ন সংকটপূর্ণ মুহূর্তে দিকভ্রান্ত হন না। কেননা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষমতা ও অরাজকতা প্রকাশিত করার জন্য যথেষ্ট। আর এজন্য এ রকম গুণের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

৫. বুদ্ধিমত্তা:

যোগ্য নেতৃত্বের একটি অত্যাবশ্যকীয় ৩৭হলো বুদ্ধিমত্তা ও পারদর্শিতা। একজন সাধারণ মানুষ তখনই নেতা হিসেবে পরিগণিত হন যখন তিনি তার কাজকর্মে বুদ্ধিমত্তা ও বিশেষতার পরিচয় দিতে পারেন। কেননা একজন নেতাকে অবশ্যই রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সমস্যা অনুধাবন ও সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। আর এ ধরনের সমস্যা অনুধাবন ও তার সমাধানের জন্য একজন নেতাকে অবশ্যই জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান হতে হবে অন্যথায় ক্ষমতা কাঠামো ও সামাজিক স্থিতিশীলতা সংকটপূর্ণ অবস্থার দিকে ধাবিত হবে।

৬. সহনশীলতা ও সংযম:

একজন ব্যক্তিকে সুযোগ্য নেতা হতে হলে তাকে অবশ্যই সহনশীল ও সংযমী হতে হবে। অন্য একজন সহকর্মী বা সাধারণ জনগণের মত বা পথ অসহনীয় মনে হলেও তা ধৈর্যসহকারে শ্রবণ করা ও তা মোকাবেলা করার প্রবৃত্তি থাকতে হবে। একজন নেতাকে অবশ্যই সকল প্রকার লোভ ও লালসার উর্ধ্বে উঠে আত্ম-সংযমে প্রবৃত্ত করতে হবে নিজেকে। তিনি হবেন কামনা-বাসনার চেয়ে উপরে। একজন নেতা সহনশীলতা ও সুস্থিরতার সাথে যেকোনো ধরনের সমস্যা সমাধানে কাজ করবেন। কেননা সহনশীলতা একজন নেতার উত্তম গুণ। আর সহনশীল ও সংযমী নেতৃত্বই পারে জনগণের মুক্তির জন্য সঠিকভাবে কাজ করতে।

৭. নিরপেক্ষতা ও ন্যায়পরায়ণতা:

যোগ্য নেতৃত্বকে অবশ্যই নিরপেক্ষ ও ন্যায়পরায়ণ হতে হবে। কেননা এই দুটি নেতৃত্বের অপরিহার্য গুণ। একজন নেতাকে সবাই সমানভাবে গ্রহণ করেন এটাই কাম্য। একজন নেতার দৃষ্টিতে সবাই সমান বলে পরিগণিত হবেন। একজন নেতা ন্যায়পরায়ণতা ও নিরপেক্ষতার উপর ভিত্তি করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে থাকেন। নিরপেক্ষতা ও ন্যায়পরায়ণতা তাই যোগ্য নেতৃত্বের অন্যতম গুণ। নেতৃত্ব যদি নিরপেক্ষ ও ন্যায়পরায়ণ না হয় তবে এর স্থলে স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্ব স্থান পাবে যার ফলে সমাজে অস্থিতিশীলতা ও বিশৃঙ্খলতা দেখা যেতে পারে।

৮. উদারতা: 

উদারতা একটি মানবিক গুণ। এটি নেতৃত্বেরও একটি অপরিহার্য গুণ। একজন নেতা অবশ্যই সহনশীল হবেন এবং তিনি সবাইকে ভালোবাসা, স্নেহ ও উপকার করার মহান ইচ্ছা নিয়ে কাজ করবেন। একজন নেতাকে অবশ্যই ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থের স্থলে বৃহৎ গোজীস্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। একজন নেতা অবশ্যই নিজ স্বার্থকে উপেক্ষা করে অন্যের স্বার্থ অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়ার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করবে। কেবল মহৎ এবং উদার ব্যক্তিদের পক্ষে সাধারণ জনগণের আস্থা ও শ্রদ্ধা অর্জন করা সম্ভব। আর তাই নেতৃত্ব থেকে পরশ্রীকাতরতা, হীনম্নন্যতা, দীনতা ও সংকীর্ণতা দূরে থাকে।

৯. বক্তব্য ক্ষমতা:

একজন যোগ্য নেতৃত্বের অন্যতম গুণ হলো তার নিজ বক্তব্যকে সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় স্পষ্টাকারে জনগণের সামনে তুলে ধরা। একজন নেতার বক্তব্যে যদি দৃঢ়তা, গভীরতা, স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা না থাকে তাহলে তার প্রতি জনারে আকৃষ্ট হতে পারবে না। একজন নেতাকে তাই সুন্দর ভঙ্গিতে বক্তব্য দেয়ার ক্ষমতা অর্জন করতে হবে। কেননা সুন্দর বক্তব্য দেয়ার মাধ্যমেই কেবল একজন নেতা সাধারণ জনগণের কাছাকাছি চলে আসতে পারেন। আর এ কারণে তাকে অবশ্যই শিক্ষা ও জ্ঞান চর্চা করতে হবে। তাছাড়া বিভিন্ন বিখ্যাত নেতা, যেমন- মাওলানা ভাসানী, এ. কে. ফজলুল হক সহ অন্যান্যদের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখতে হবে।

১০. দায়িত্বশীলতা:

একজন নেতাকে অবশ্যই দায়িত্বশীল হতে হবে। তাকে তার কর্মের মধ্যে তার দায়িত্ববোধ প্রদর্শন করতে হবে। কেননা দায়িত্ববোধ নেতৃত্বের মহৎ গুণ। একজন নেতাকে অবশ্যই সর্বোচ্চ মাত্রায় দায়িত্বসম্পন্ন হতে হবে। নেতার উপর যে দায়িত্ব অর্পণ করা হয় তা পালনের মধ্য দিয়েই সে শীর্ষে আরোহণ করতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, কর্তব্য ও দায়িত্ব পালন নেতৃত্বকে মোহনীয় করে তোলে। দায়িত্ববোধ যদি নেতৃত্বে না থাকে তাহলে তা সাধারণ জনগণের অবস্থার পরিবর্তন ঘটানোতে ব্যর্থ প্রতিপন্ন হয়ে থাকে। আর এর ফলে সামাজিক অস্থিরতা দেখা যায় তা মূলত নেতৃত্বের ধ্বংস ত্বরান্বিত করে থাকে।

১১. মানবতাবোধ: 

একজন নেতা অবশ্যই মানবিক গুণের অধিকারী হবেন। কেননা মানবিক গুণাবলিই একজন মানুষকে মূলত তার সাধারণ অবস্থান থেকে আরো উন্নত অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে। নেতৃত্বের অন্যতম মহৎ গুণ মানবতা ও মানবপ্রীতির সবকিছুকে ভুলে মানুষকে তিনি মুখ্য জ্ঞান করবেন। সাধারণ মানুষকে নেতা অবজ্ঞার দৃষ্টি দিয়ে দেখবেন না। সর্বোপরি একজন নেতা হবেন সচ্চরিত্রবান ও নিরহংকারী ব্যক্তি। কেননা একজন নেতাকে সাধারণ জনগণ তার জনকল্যাণমূলক দৃষ্টিভঙ্গির জন্যই পছন্দ করবে। আর সম্ভব তখনই যখন একজন নেতা মানবতার সেবা করার লক্ষ্যে কাজ করেন।

১২. আত্মবিশ্বাস: 

একজন নেতাকে অবশ্যই তার কর্মে আত্মবিশ্বাসের ছাপ রাখতে হবে। আর একজন নেতাকে এ কারণে তার কার্যাবলি সুস্থিরভাবে ও বিচক্ষণতার সাথে সম্পাদন করতে হবে। এর অভ্যন্তরে কোন ব্যক্তি যদি তার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে সন্দিহান হয়ে থাকে তবে তাকে কেউ নেতা বলে গ্রহণ করবে না। কেননা নেতৃত্ব হলো এমন একটি গুণ যা একজন ব্যক্তিকে তার নিজ যোগ্যতার থেকে ঊর্ধ্বে উঠে কিছু করার সাহস যোগায়। আর এ কারণে একজন নেতাকে আত্মবিশ্বাসে উদ্ভাসিত হতে হবে। সাধারণ জনগণ যেন তার উপর ভরসা করতে পারে সে লক্ষ্যে তাদের কাজ করতে হবে।

১৩. দক্ষতা: 

কোন ব্যক্তিকে নেতা বলে পরিগণিত হতে হলে তাকে অবশ্যই তার নির্দিষ্ট প্রতিভাগুলোতে দক্ষ হতে হবে। একজন ব্যক্তি যদি তিনি দক্ষ হন তবে তার পক্ষে দক্ষতার সাথে কোন দায়িত্ব পালন করা এবং অন্যের উপর প্রভাব বিস্তার করা সম্ভব হবে। তাছাড়া নেতৃত্ব যদি দক্ষ হয় তবে সাধারণ জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার কাজ করতে পারবে। আর এ কারণে নেতৃত্বকে দক্ষ হতে হবে এবং তাকে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যার্জনের উদ্দেশ্যে কাজ করতে হবে তাছাড়া সাধারণ জনগণের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও নেতৃত্বের দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম ভূমিকা পালন করে।


শেষ কথাঃ

পরিশেষে বলা যায় যে, রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব কতকগুলো সুনির্দিষ্ট নিয়ামকের দ্বারা আবর্তিত হয়। গ্রামীণ সমাজব্যবস্থায় যে ধরনের নেতৃত্ব লক্ষ করা যায় তা একটি নির্দিষ্ট কাঠামো অন্তর্ভুক্ত করে। তাছাড়া নেতৃত্ব যদি যোগ্য হয় কেবল তবেই তা সাধারণ জনগণের জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে। আর এজন্য নেতৃত্বকে অবশ্যই কতকগুলো নির্দিষ্ট গুণাবলির অধিকারী হতে হবে। কেননা, নেতৃত্ব যদি যোগ্য না হয় তাহলে তা জনগণের মনে কোন প্রকার আশার আলো দিতে পারে না। নেতৃত্ব একটি গতিশীল প্রক্রিয়া এবং এর দ্বারা কতকগুলো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যার্জন করা সম্ভব। তবে এজন্য নেতৃত্বের গুণাবলির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url