ছোট গল্প: সেকেন্ডহ্যান্ড। লেখক: মোঃ সাইফুল হাসিব

আমাদের পাশের গ্রামের বড়ভাই শাহনেয়াজ ভাই। আমাদের দুই ক্লাস ওপরে পড়তেন। একেবারে প্রাইমারি স্কুল থেকেই তাঁকে দেখে আসছি। আমরা যখন ক্লাস থ্রি থেকে ক্লাস ফোর-এ উঠলাম তিনি তখন ফাইভ থেকে উঠলেন সিক্স-এ। শাহনেয়াজ ভাই আমার স্কুলের শুধু বড় ভাই-ই ছিলেন না, আমার দূর সম্পর্কেও কিছুটা আত্মীয়ও তিনি ছিলেন। স্কুলে পড়ার সময় শুধুমাত্র পাঠ্যবই থেকেই নয়, বড় ভাইদের আচার-আচরণ হতেও শিক্ষা নেয়া হয়ে থাকে। তাই শাহনেয়াজ ভাইকে মোটামুটি খেয়াল রাখতাম। নতুন ক্লাসে উঠার আগে স্কুল দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল; একই সাথে প্রাইমারি ও হাইস্কুল খুললো। এ স্কুল দুটো পাশাপাশিই ছিল। বন্ধের মধ্যে আমি নতুন ক্লাসের নতুন বই কিনেছিলাম। ক্লাসে আর কে কে নতুন বই কিনছে সেটিও লক্ষ্য করলাম। নতুন কাসের প্রথম দিনে বই নিয়েই ছিল আমাদের আলোচনা। কার নতুন বই, কার পুরনো বই, কার কতটি বই নতুন, কার কতটি বই পুরনো ইত্যাদি। শাহনেয়াজ ভাইয়ের দিকে বাড়তি নজর থাকায় তার দিকেও লক্ষ্য করলাম। একেবারে কাছে গিয়ে ভালভাবে নেড়েচেড়ে না দেখলে বুঝার উপায় ছিলনা তার বই নতুন, না পুরানো ছিল; কারণ, সব বইয়েই নতুন মলাট দেয়া। তাকে জিজ্ঞেস করতেই তিনি জানালেন: 'টাকা জোগাড় করতে পারিনি, তাই পুরানো বই কিনলাম; বই পুরানো হলেও কিন্তু নতুনের মতই, বইগুলো হক ভাই কিন্তু অনেক যত্নে রেখেছিল।' হক ভাই খুব ভাল ছাত্র ছিলেন না, এর আগে ২/১ ফেল করেছেন, একবার বিশেষ বিবেচনায় প্রমোশন পেয়েছিলেন, আরেকবার পাননি। সম্ভবতঃ একবার পাশ করতে পারবেন, না-কি পরবর্তীতে একই ক্লাসে আবার পড়তে হবে-এ ভাবনায় বইগুলোকে যত্নের সাথে ব্যবহার করেছেন কি-না কে জানে। যাহোক, শাহনেয়াজ ভাইয়ের ভাগ্যে জুটলো পুরানো বই, এটিই কথা। পুরানো বই মানে "সেকেন্ডহ্যান্ড বই"।

বাংলা ছোট গল্প
গল্পের নাম: সেকেন্ড হ্যান্ড। লেখক: সাইফুল হাসিব

আমাদের গ্রামের স্কুল- সে সময়ে অধিকাংশ ছেলেরাই ক্লাসে লুঙ্গি পরে আসতো, অবশ্য আমরা কয়েকজন পাজামা বা প্যান্ট পরে আসতাম। শাহনেয়াজ ভাই আসতেন পাজামা পরে। হঠাৎ একদিন দেখি তিনি প্যান্ট পরে এসেছেন। কোথা হতে প্যান্ট বানিয়েছেন জিজ্ঞেস করতেই তিনি জানালেন: 'আরে নতুন নয়, পুরানো- সেকেন্ডহ্যান্ড, শহরে গিয়েছিলাম ডাক্তার দেখাতে, আবদার করতেই আব্বা কিনে দিলেন।' তখন সেকেন্ডহ্যান্ড কাপড়ের খুব প্রচলন; শার্ট, প্যান্ট, কোর্ট, সোয়েটার- সবকিছুই সেকেন্ডহ্যান্ড পাওয়া যেত। দামেও ছিল অনেক সস্তা। নতুন একটির দামে সেকেন্ডহ্যান্ড পাওয়া যেত তিন/চার টি। এভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর শাহনেয়াজ ভাই দেখি অন্য রঙের আরেকটি প্যান্ট পরে এসেছেন। ভাবলাম এটি হয়ত নতুন হবে। কিন্তু না, জিজ্ঞেস করতেই তিনি উত্তর দিলেন: 'আরে মিয়া, না, শহরে গিয়েছিলাম। তুমি তো আমাদের অবস্থা জানাই, কয়েক ভাই-বোন লেখাপড়া করি, সংসারে অনেক খরচ; আবার প্যান্ট পরারও অনেক শখ, তাই নিয়ে নিলাম "সেকেন্ডহ্যান্ড প্যান্ট" একটা।'

শাহনেয়াজ ভাইয়েরা ছিলেন ৪ ভাই ৩ বোন। ভাই-বোনদের মধ্যে শাহনেয়াজ ভাই ছিলেন দ্বিতীয়। বোন ছিল সবার বড়, অল্প কয়েক ক্লাস পড়ার পর অল্পবয়সেই বিয়ে হয়ে গিয়েছিল তার। দু'বছর পর আমি ক্লাস সিক্স-এ উঠে ভবিষ্যতে ভাল ফলাফল করার আশায় চলে এলাম শহরের স্কুলে। তাই অনেকদিন ধরে শাহনেয়াজ ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ ছিল না। একবার ছুটিতে বাড়ি এসে শাহনেয়াজ ভাইয়ের খোঁজ নেয়ার জন্য গেলাম তাদের বাড়িতে। দেখলাম তিনি খুবই ব্যস্ত এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে। সারাদিন পড়া, আর পড়া। কোনদিকেই তার কোন ভ্রূক্ষেপ নেই। শুধু পড়াই নয় অন্যকিছুর দিকেও নজর দেয়া দরকার-এরকম উপদেশের প্রেক্ষিতে তার সোজা জবার: 'আরে ভাই, তুমিতো জানো না, আমি কিন্তু এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার জন্য টেস্টে কোয়ালিফাই করতে পারিনি, ইতিহাসে খারাপ হয়েছিল। আমার জ্বরের কারণে পড়তে না পারার অজুহাত দেখিয়ে অনেক অনুনয়-

বিনয় করার পর হেডস্যার ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ইতিহাসে সেকেন্ড টাইম পরীক্ষা নিয়েই আমাকে এসএসসি পরীক্ষার সুযোগ দিয়েছেন। এছাড়া, অন্যান্য সাবজেক্টগুলোতেও খুব যে ভাল মার্ক ছিল তা কিন্তু নয়। আমার সেকেন্ড চাঙ্গে কোয়ালিফাই করার সময়ে টিচাররা আমার বিষয়ে মন্তব্য করেছেন কঠোর পরিশ্রম না করলে সেকেন্ড ডিভিশন তো দূরে থাক, থার্ড ডিভিশন পাওয়াই আমার জন্য কষ্টকর হবে। তাই আমি পণ করেছি সেকেন্ড ডিভিশন আমাকে পেতেই হবে।' কঠোর অনুশীলনের পর এসএসসি পরীক্ষায় শাহনেয়াজ ভাই সেকেন্ড ডিভিশনে পাশ করলেন।

কলেজে ভর্তি হলেন শাহনেয়াজ ভাই। তাঁর সে কী খুশির বহিঃপ্রকাশ। স্কুল--সে তো সাধারণ জিনিষ, সবাই এখানে পড়তে পারে। প্রাইমারি স্কুলও স্কুল, আবার হাইস্কুলও স্কুল, নামের কোন পার্থক্য নেই; মানে পার্থক্য যতই থাকুক না কেন। কিন্তু কলেজ বলে কথা। শাহনেয়াজ ভাই এখন কলেজ স্টুডেন্ট। কলেজে ভর্তি হওয়ার পর বাড়ি থেকেই ক্লাস করা শুরু করলেন। কিন্তু যাতায়াত বাবদ ভাল টাকাই খরচ হয়ে যাচ্ছিল, প্রতিদিন কলেজে যেতে এক টাকা আর ফিরতে এক টাকা-এই দুই টাকা খরচ তার কাছে বাড়তি মনে হতে লাগল। আর প্রতিদিন কলেজে যাতায়াতের জন্য প্রায় ঘণ্টা দুই ব্যয় করাও তার জন্য খুব বেশি সময় বলে মনে হতে লাগল। তাই তিনি লজিং খুঁজতে লাগলেন। কলেজের একেবারে আশেপাশে লজিং পাওয়া মুস্কিল হচ্ছিল। তাই কলেজ হতে ২ কিলোমিটার দূরে পাওয়া গেল লজিং। পড়াশুনোয় খুব যে ভাল ছিলেন শাহনেয়াজ ভাই, তা কিন্তু নয়। মোটামুটি ছিলেন। তিনি যখন কলেজের সেকেন্ড ইয়ারে তখন ছুটিতে বাড়ি গেলে তার সাথে দেখা হলো। তিনি তখন তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা আমাকে জানালেন। বললেন: 'শোন মিয়া, তুমি তো অনেক ভাল ছাত্র, ক্যাডেট কলেজে চান্স পেয়েছো, ভবিষ্যতে আর্মি অফিসারের পদ তো তোমার একেবারে কনফার্মড। আর ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হতে চাইলেও সে সম্ভাবনাও তোমার থাকবে। কিন্তু আমি সেকেন্ড ক্যাটাগরির ছেলে। যদি ইন্টারমিডিয়েটে সেকেন্ড ডিভিশন পাই তবে আর্মিতে পরীক্ষা দিব সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পদের জন্য। কী বল মিয়া, ভাল পরিকল্পনা না?' আমি হ্যাঁ-সূচকভাবে মাথা ঝাঁকালাম। কিন্তু বিপত্তি দেখা দিল ইন্টারমিডিয়েটের রেজাল্টে। শাহনেয়াজ ভাই পাশ ঠিকই করলেন; কিন্তু সেকেন্ড ডিভিশন পেলেন না। তাই তার সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হওয়ার স্বপ্নপূরণের জন্য পরীক্ষাও আর দিতে পারলেন না। কিন্তু দমবার পাত্র নন তিনি। সেকেন্ড টাইম অর্থাৎ ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা দেয়ার জন্য তিনি প্রস্তুতি নিলেন এবং সেবার কিন্তু সেকেন্ড ডিভিশন আদায় করেই ছাড়লেন। অন্যদিকে, সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হওয়ার জন্য সেকেন্ড টাইম তিনি আশায় বুক বাঁধলেন। তবে এসএসবি-তে তিনি কোয়ালিফাই করতে পারলেন না। তিনি সেকেন্ড টাইম প্রস্তুতি নেয়ার একটা প্রচেষ্টা নিয়েছিলেন; কিন্তু কেন যেন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলেন।

এরপর শাহনেয়াজ ভাই ভর্তি হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখনকার মত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির নিয়ম তখন ছিলনা। তখন বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষা দিতে হতো; আর এখন ইউনিটভিত্তিক পরীক্ষা দেয়া হয়-অর্জিত ফলাফলের ভিত্তিতে বিষয় নির্ধারিত হয়। শাহনেয়াজ ভাই তিনটি বিষয় নির্বাচন করলেন যার যেকোনটিতে ভর্তি হতে তিনি ইচ্ছুক ছিলেন। কিন্তু একটি বিষয়ে তিনি কোয়ালিফাই করতে পারলেন না। আর দুটি বিষয়ে কোয়ালিফাই করলেও যেটি ভাল সাবজেক্ট ছিল সেটিতে তিনি ওয়েটিং লিস্টে থাকলেন। ওয়েটিং লিস্টের সাবজেক্টটির জন্য তিনি কয়েকদিন ওয়েট করলেন এবং ওয়েটিং লিস্ট অর্থাৎ দ্বিতীয় তালিকা হতে তিনি ভর্তি হলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরে তিনি খুশিতে ভরে উঠলেন। তাঁর আতিশয্যের ধাক্কা সম্ভবত তাঁকে কিছুটা অস্থির করে তুলেছিল, তিনি হয়ত সামাল দিতে পারছিলেন না; তিনি পড়াশুনোর পাশাপাশি অন্যকিছু করে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছিলেন। তাই যোগ দিলেন ছাত্র রাজনীতিতে। প্রথমে পদ-পদবী পাওয়া কষ্টকর, প্রমাণ দিতে হয় যোগ্যতার। তাই হয়ত শাহনেয়াজ ভাই তাঁর যোগ্যতা প্রমাণের জন্য উঠেপড়ে লাগলেন। কিছুদিনের মধ্যেই হয়ে গেলেন নেতা শরিফ ভাইয়ের একেবারে 'সেকেন্ড' হ্যান্ড। রাজনীতির পাশাপাশি পড়াশুনোটাও ভাল করে করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে লাগলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অনেক খারাপ ছাত্রকে ভাল করে দেয়, আবার অনেক ভাল ছাত্রের পরীক্ষার ফলাফলও খুব খারপ হয়ে যায়। আমাদের শাহনেয়াজ ভাই মোটামুটি ভাল ফলাফল করলেন। তিনি অনার্স ও মাস্টার্স উভয় পরীক্ষাতেই পেলেন সেকেন্ড ক্লাস। ফলাফল হিসেবে যথেষ্ট ভাল। কিন্তু পড়াশুনো করার মূল উদ্দেশ্য চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট অসুবিধায় পড়লেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তখন সব ছাত্রেরই কিন্তু টার্গেট থাকতো বিসিএস পাশ করে চাকরি নেয়ার। আজকাল দিন পাল্টেছে। সরকারি চাকরির দিকে ঝোঁক একবোরেই কম। অনেক বেতনে বিদেশি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে একেবারে ঝলমলে জীবনযাপন করার অথবা বিদেশে পড়াশুনো করে সেখানে সেটেল করার মানসিকতা নিয়েই এগোয় আজকালের ছেলেরা। তো শাহনেয়াজ ভাইয়ের দু'বারের চেষ্টা ব্যর্থ হলো।

শাহনেয়াজ ভাই সরকারি চাকরি না পেয়ে চেষ্টা করতে থাকলেন কোন ফার্মে কিংবা বেসরকারি অন্যকোন চাকরির। কিন্তু এখানেও খুব সফলতা এলো না। অবশ্য মোটামুটি চাকরি পেলেন একটি ফার্মে। কিছুদিন পর বুঝতে পারলেন, তাকে দিয়ে গাধার খাটনি খাটানো হচ্ছে; কিন্তু সে তুলনায় বেতন ছিল অপ্রতুল। ছেড়ে দিলেন তিনি চাকরি। আবার ধরলেন আরেকটি। কিন্তু মালিকের সাথে তার একেবারেই বনলো না। মালিকের আচার-ব্যবহারে তাঁর মনে হলো মালিক ক্লাস 'টু' পাশের বেশি হয়ত হবেন না। বছর দুই এভাবে চাকরি করার পর তিনি চাকরি ছেড়ে দিলেন। তিনি ব্যবসায় করার মনস্থির করলেন। কিন্তু টাকা? টাকাতো জোগাড় করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। জমানো টাকা চাকরিবিহীন অবস্থায় আস্তে আস্তে খরচ হয়ে যাচ্ছে। সহসা একটা কিছু না করতে পারলে কিন্তু নয়। এ অবস্থায় একদিন বাসস্ট্যান্ডে দেখা হয়ে গেল তার ছোট বেলার বন্ধু কায়সারের সাথে। সব শুনে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কায়সার তাকে তার ব্যবসার সাথে যুক্ত হতে পরামর্শ দিলেন। ব্যবসা আর কিছু নয়, বিভিন্ন অফিসে টুকিটাকি মাল সাপ্লাই দেয়া। কায়সার সাপ্লাইয়ের সাব-কন্ট্রাক্ট নিতেন; আর বাজার হতে মাল কিনে সাপ্লাই করতেন। এভাবেই মূল কন্ট্রাক্টরের সাথে একদিন দেখা হয়ে গেল শাহনেয়াজ ভাইয়ের। কী কারণে যেন কন্ট্রাক্টর আবুল হায়াতের মনে ধরে গেল তাঁকে। কন্ট্রাক্টর সাহেব স্নেহ করা শুরু করলেন। আফটার অল, শাহনেয়াজ ভাই ছিলেন শিক্ষিত, যথেষ্ট স্মার্ট আর দেখতেও মোটামুটি ভালই। একদিন আবুল হায়াত তাঁকে অফার দিলেন তাঁর সাথে পার্টনারশিপে ব্যবসা করার জন্য। কিন্তু তার তো কোন পুঁজি নেই জানাতেই হায়াত সাহেবের জবাব: 'আরে মিয়া, আমি যখন গ্রাম হতে ঢাকা শহরে এসেছিলাম তখন একবেলা খাবারের পয়সা পর্যন্ত ছিলনা, এখন আমার ঢাকা শহরে ২টি বাড়ি আর ৪টি ফ্লাট। চিন্তা করোনা মিয়া, আল্লাহ্ দয়া করলে একদিন তোমারও অনেক কিছু হতে পারে।' হায়াত সাহেবের কথায় মুহূর্তের মধ্যে কল্পনার জগতে প্রবেশ করেন শাহনেয়াজ ভাই। দিব্যচোখে দেখতে থাকেন তাঁরও ২টি বাড়ি, ৪টি ফ্লাট আর গাড়িও ২টি; আরও কত কী! 'কী মিয়া, কিছু বললা না?'--হায়াত সাহেবের এমন জিজ্ঞাসায় সম্বিত ফিরে পান তিনি। মাথা নেড়ে বলেন: 'আমি রাজি আছি।'

শুরু হয় শাহনেয়াজ ভাইয়ের নতুন জীবন। ধীরে ধীরে আস্থা বাড়তে থাকে তাঁর। এর মধ্যে একদিন কায়সার সাহেবের মাধ্যমে শাহনেয়াজ ভাইয়ের সাথে হায়াত সাহেব তার মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। হায়াত সাহেবের দুই মেয়ে এক ছেলে। বড় মেয়েটি যখন ইন্টারমিডিয়েট পড়ছিল তখন তাঁর বিয়ে দিয়ে দেন তিনি। কিন্তু দুর্ঘটনা ঘটলো মেয়েটির জীবনে। বিয়ের তিন মাসের মাথায় ক্যান্সার ধরা পড়লো জামাইয়ের। এরপর আর মাস তিনেক জীবিত ছিল জামাইটি। জীবনের শুরুতেই বড় ধরনের ধাক্কায় হতবিহ্বল হয়ে গেল মেয়েটি। ফুটন্ত গোলাপের পাপড়ি যেন শুকিয়ে গেল। ঠিক মত খাওয়া-দাওয়া নেই, কথা নেই কারও সাথে, একা একা সারাদিন মনমরা হয়ে পড়ে থাকে আর নিজের জীবনকে দুষতে থাকে। এ অবস্থা হতে উত্তরণের সবচেয়ে গ্রহণযাগ্য উপায় ছিল মেয়েটিকে দ্বিতীয়বার বিয়ে দেয়া। কিন্তু কিছুতেই তাকে রাজি করানো সম্ভব হচ্ছিলনা। তার ঐ এক কথা: 'কপালে থাকলে তো স্বামী তার মরতো না, আর বিয়েতো মানুষের বারবার হয় না।' কিন্তু হাল ছাড়েননি হায়াত সাহেব, অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে রাজি করানোর পর টার্গেট করলেন শাহনেয়াজ ভাইকে। প্রস্তাব দেয়ার পর শাহনেয়াজ ভাইকে সময় দিলেন বোঝা-পড়া করার। তিনি ভাই বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, মা-বাবা এবং এমনকি আমার সাথেও পরামর্শ করলেন। কেউ কেউ কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করলেও অধিকাংশেরই একমত-মেয়েটার তো কোন দোষ নেই; আর বংশমর্যাদা, টাকা-পয়সা, চেহারা ইত্যাদির বিবেচনায় এর থেকে ভাল পাত্রী তো হতেই পারেনা। এভাবে একদিন শাহনেয়াজ ভাই সেকেন্ডহ্যান্ড পাত্রী বিয়ে করে হয়ে গেলেন হায়াত সাহেবের জামাই।

হায়াত সাহেবের মেয়ে বিয়ে করার পর তার ব্যবসায়ের একটি অংশের পুরো মালিক হয়ে গেলেন শাহনেয়াজ ভাই। মাঝে মাঝে দেখা হতো তার সাথে। আগের চেয়ে বেশ স্মার্ট হয়েছেন তিনি-কথাবার্তা, চালচলন সবকিছুতেই। তাঁর মুখোমুখি হলে তাকে কখনও বিব্রত হতে দেখিনি। কিন্তু আমার কাছে একটু কেমন মনে হতো-হয়ত বিধবা কোন মেয়েকে বিয়ে করার দুর্বলতা ঢাকার জন্য শাহনেয়াজ ভাই স্মার্টনেসের ভান করছেন বলেই আমার মনে হতে লাগলো। মাঝে মাঝেই তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দাওয়াত দিতেন। তিনি কখনও রিক্সায় আবার কখনও স্কুটারে চেপে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতেন। একদিন রাস্তায় হঠাৎ দেখি তিনি গাড়িতে চেপে মতিঝিলের দিকে যাচ্ছেন। আমাকে দেখেই গাড়ি থামালেন। বললেন: 'দেখতো রিয়াদ, কেমন হলো। বাজারদর হতে অনেক কমদামে পেলাম, তাই নিয়ে নিলাম। বাজারদর এখন কম করে হলেও ৭ লাখ, আর আমার শ্বশুরের আত্মীয় হওয়ায় আকমল সাহেব আমাকে দিলেন ৫ লাখে। আরে বুঝইতো মিয়া, আল্লাহ্ এখন সামর্থ দিয়েছেন, কষ্ট করে রিক্সা আর স্কুটারে যাওয়া আর ভাল লাগেনা, আর ভাল দেখায়ও না। তাই ব্যবসায়ের কিছু পুঁজি নষ্ট করে নিয়ে নিলাম।' মুখে বললাম, ভালই হয়েছে; কিন্তু মনে মনে বললাম "সেকেন্ডহ্যান্ড গাড়ি" না নিলেই কি হতো না?

অনেকদিন এভাবেই চলছিল। একদিন জরুরী তলব পেলাম শাহনেয়াজ ভাইয়ের কাছ হতে। কী ব্যাপার, জিজ্ঞেস করতেই মুখে হাসি নিয়ে বললেন: 'জানো রিয়াদ, সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবার একটা বাড়ি কনবো। দস্তরমতো পেয়েও গেছি। পত্রিকায় বাড়ি বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখে যোগাযোগ করেছিলাম। ক'দিন ধরে দর কষাকষির পর গতকাল ঠিক হয়েছে একেবারে পঞ্চাশ লাখে। পাঁচ কাঠার উপর দো-তলা বাড়ি। আরে মিয়া, বাড়ির দাম বাদ দিলেও তো জমির দামই কম করে পঞ্চাশ লাখ। কী, ঠকেছি, না জিতেছি?' আমি মাথা চুলকাতে লাগলাম। শাহনেয়াজ ভাই নতুন ফ্লাট কিনলেই ভাল করতেন। আমার টাকা হলে আমি সেকেন্ডহ্যান্ড বাড়ি কিনতাম না, যতই পড়তা হোক না কেন।

দেশ শনৈ শনৈ উন্নতির দিকে যাচ্ছে। আগে আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি তখন টেলিভিশন চ্যানেল ছিল মাত্র একটা-বিটিভি। আর এখন ডিশের মাধ্যমে প্রায় ৪০টি চ্যানেল দেখা। আগে একটা টেলিফোন থাকা মানে মর্যাদার উচ্চ গ্রামের একেবারে শীর্ষে। প্রতিবেশিরা তো বটেই এমনকি কোন ভাড়াটিয়ার বাসায় টেলিফোন থাকলে বাড়িওয়ালা পর্যন্ত টেলিফোন করতে আসতো। অতীব জরুরীও ছিল জিনিষটা। হাসপাতালে ফোন, এ্যাম্বুলেন্সের জন্য ফোন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবদের খোঁজ নেয়ার জন্য ফোন ইত্যাকার কত কিছুর জন্যই তো ফোনের প্রয়োজন। কিন্তু এখন? খুব কম লোকেই এখন টেলিফোন নিতে চায়। সবার হাতে হাতেই এখন মোবাইল টেলিফোন। আবার মোবাইল ফোনের কত রকমফের। প্রথমে শুধু চলতে চলতে কথা বলার কায়দা, এরপর আসলো ক্যামেরাওয়ালা, আবার এখন এসেছে স্মার্টফোন। মোবাইল টেলিফোন মোটামুটি চালু হওয়ার পরে শাহনেয়াজ ভাইও এর গর্বিত মালিক হলেন। মোবাইল ব্যবহার শুরু করার পর হতে এটি ছাড়া তাকে কিন্তু দেখিনি। কিন্তু বড় ম্যাড়মেড়ে সেট তিনি ব্যবহার করতেন। একদিন তাঁকে বলেই ফেললাম: 'শাহনেয়াজ ভাই, আপনার অবস্থার সাথে তো আমার তুলনা হবেনা; কিন্তু দেখেন, আপনার মোবাইল সেটের চাইতে দামি সেট আমার।' আরে রাখ মিয়া, একটি হলেই হলো': তার সোজা জবাব। এরপর মোবাইল ফোনের দ্রুত বিবর্তনের মধ্যে দিয়ে একসময় এলো স্মার্ট ফোন। আমি ফাজলামো করে বললাম, 'আরে শাহনেয়াজ ভাই, বয়স তো আর কম হলোনা, আর কতদিন। বেঁচে থাকলেও শখ করার বয়স হয়ত আর বেশিদিন থাকবে না। শুধু বউ, ছেলে-মেয়েরাই ব্যবহার করবে, আপনার শখ হয় না দামি সেট নিয়ে ঘুরতে?' কিন্তু শাহনেয়াজ ভাইয়ের মধ্যে এ ব্যাপারে কোন পরিবর্তন দেখলাম না। একদিন কী যেন কাজে গেলাম তার ওখানে। এ অবস্থায় তার ফোন এলো। পকেট থেকে বের করলেন ইয়া সাইজের স্মার্ট এক ফোন। কী তার রিং টোন, কী তার গেট-আপ, সাথে চোখ ধাঁধানো ফিলিপ কভার। কথা শেষ হওয়ার পর বললাম: 'আরে শাহনেয়াজ ভাই, ব্যাপার কী? কবে কিনলেন এত দামি সেট? দেখি দেখি।' হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে মনে হলো সেটটি একেবারে নতুন না; কেউ হয়ত ব্যবহার করেছে এর আগে। জিজ্ঞেস করতেই জানালেন: 'মেয়ের কথায় তাঁকে সত্ত্বর হাজার টাকায় কিনে দিয়েছিলাম একটি ফোন, আইপ্যাড না কী যেন বলে। মেয়ে আমার মাত্র তিন মাসেরও কম ব্যবহার করেছে ওটি। ওর মামা ওটার থেকেও ভাল সেট বিদেশ থেকে এনে ওকে উপহার দিয়েছে। তার উপহার পাওয়া নতুনটা আমাকে নেয়ার জন্য পিড়াপিড়ি করেছিল। কিন্তু তাকে তার মামার দেয়া জিনিষ আমি কেন নিতে যাব? তাই অগত্যা মেয়ে প্রস্তাব দিল তার ফোনসেটটি যেন আমি নেই। তাই নিয়ে নেয়া আর কী। ও আমাকে স্মার্টফোন ব্যবহারের কায়দা-কানুনও কিন্তু শিখিয়ে দিয়েছে, আমি এরই মধ্যে অপারেশনও শিখে ফেলেছি। দেখবে?' আমি না করলাম। অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করলাম এখানেও শাহনেয়াজ ভাই কেমন করে যেন সেকেন্ডহ্যান্ড মোবাইল এর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে গেলেন।

এরপর অনেকদিন কেটে গিয়েছে। শাহনেয়াজ ভাইয়ের দু'মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছেলেটি দেশে লেখাপড়া শেষ করে আমেরিকায় পড়তে গিয়েছে। আর ভাবিও অপরিণত বয়সে শাহনেয়াজ ভাইকে ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন।

সেদিন ছিল ফেব্রুয়ারি মাসের ৭ তারিখ-বার ছিল সোম। ভোর ৪টার দিকে হঠাৎ করে আমার মোবাইল ফোন বেজে উঠলো। নম্বরটা সেভ করা ছিল। দেখলাম শাহনেওয়াজ ভাইয়ের নম্বর। এত ভোরে? কোন দুঃসংবাদ নয়তো? বুকটা হঠাৎ কেঁপে উঠলো।

'হ্যালো, শাহনেয়াজ ভাই, কী ব্যাপার, এত ভোরে?' বলতেই ওপাশ হতে বড় মেয়ে ডলি বলে উঠলো: 'চাচু, সব শেষ, আব্বা আর নেই।' 'নেই মানে? কখন, কী করে হলো?' তার আগেই টেলিফোন রেখে দিয়েছে ডলি। ফজরের নামাজ পড়ে সাথে সাথেই ইসমতকে নিয়ে হাজির হলাম শাহনেয়াজ ভাইয়ের বাসায়। নিথর দেহ ঘিরে আছে দুই মেয়ে, জামাই আর আত্মীয়-স্বজনেরা। শুধুই কান্না-একবার এ আত্মীয়কে ধরে, একবার ও আত্মীয়কে ধরে, একবার আমাকে ধরে। তাদের এক কথা: 'অপরিণত বয়সে মা চলে যাওয়ার পর বাবাকে আমরা আঁকড়ে ধরেছিলাম, কিন্তু ৬৪-৬৫ বছর কী এমন বয়স বলেন, এ বয়সেই তিনিও চলে গেলেন, তাও আবার প্রথমবারের স্ট্রোকে। এখন আমরা কী নিয়ে বাঁচব বলুন।' চেষ্টা করলাম সান্ত্বনা দেয়ার: সব মানুষকে তো যেতেই হয়, বাবা-মা কারও চিরদিন থাকেনা, আল্লাহর মাল আল্লাহ্ নিয়ে গিয়েছেন ইত্যাদি বলে।

শাহনেয়াজ ভাইয়ের ছেলে আমেরিকায় পড়াশুনো করতো। বাবার মৃত্যুর সংবাদের সাথে সাথেই রওয়ানা করছে ঢাকার উদ্দেশ্যে। টিকিট পেতে একদিন বিলম্ব হয়েছে। তাই দুই দিন মরদেহ রাখা হলো হিমঘরে। এদিকে, কোথায় দাফন করা হবে এ নিয়ে চললো নানা মত, সিদ্ধান্তহীনতা এসব। গ্রাম হতে আসা আত্মীয়-স্বজনের দাবি শাহনেয়াজ ভাই গ্রামকে ভালবাসতেন গভীরভাবে। শেষ বয়সে ভাবিসহ গ্রামে থাকবেন বলে আমাদেরকে অনেকদিন বলেছেন। গ্রামে ঘর করার পরিকল্পনার কথা অনেকবার শুনিয়েছেনও। কিন্তু মেয়রা বললো: 'আমাদের গ্রাম একবারে প্রত্যন্ত এলাকায়। যাতায়ত ব্যবস্থা একেবারেই ভাল না। ওখানে আব্বাকে দাফন করা হলে আমরা কোনদিন যেতে পারবোনা। তাই আমরা চাই আব্বার মরদেহ ঢাকায় দাফন করা হোক। আমরা আমাদের ভাই নকিবের সাথে কথা বলেছি, সে আমাদের সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।' তাই সিদ্ধান্ত হলো ঢাকাতেই দাফন করা হবে শাহনেয়াজ ভাইয়ের। কিন্তু গোল দেখা দিল কবরস্থান নিয়ে। আজিমপুরে কবর দেয়া যায়; কিন্তু মাত্র এক বছরের মাথায় তা গুড়িয়ে দেয়া হবে। শাহজাহানপুরের অবস্থাও তথৈবচ। অনেক ভেবেচিন্তে ভাবির ভাই মনির সাহেব বললেন: 'আপার কবর তো দেয়া হয়েছে বনানী কবরস্থানে, আসলে ওটি দুলাভাই কিনেছিলেন তাঁর দাফনের জন্য। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ আপা আগে চলে যাওয়ায় এবং অন্যখানে কোন সংস্থান না হওয়ায় ঐ কবরে আপাকে দাফন করা হয়েছে। আপার কবরে দুলাভাইকেও দাফন করলে ধর্মীয় কোন অসুবিধে যেমন হবেনা, তেমনিভাবে দু'জন একই কবরে থাকতে পারবেন।' এরকম অনেক যুক্তি-পাল্টাযুক্তি দেখানো হলো। সবশেষ সিদ্ধান্ত হলো ভাবির কবরেই দাফন করা হবে শাহনেয়াজ ভাইকে। সবশেষে সেভাবেই সেকেন্ডহ্যান্ড কবরে সম্পন্ন হলো শাহনেওয়াজ ভাইয়ের দাফন।

একজন শাহনেয়াজের অধ্যায় দুনিয়া হতে শেষ হয়ে গেল। তিনি সংগ্রাম করেছেন, তিনি কষ্ট করেছেন এবং ত্যাগ করেছেন। সে ত্যাগ তিনি মরে গিয়েও করলেন। রেখে গেলেন নতুন মাত্রা, নতুন উদাহরণ, নতুনদের জন্য সম্ভাবনাময় এক পৃথিবী।

____________________সমাপ্ত____________________


নোটঃ 

আজকের লেখা ছোট গল্প "সেকেন্ডহ্যান্ড"এর লেখক: মোঃ সাইফুল হাসিব ভাইকে স্মরণ করছি। আপনার লেখা গল্পটি আমি স্মরনিকা সৌহার্দ বই-২০১৬ থেকে পেয়েছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে আপনার সাথে যোগাযোগ করার কোন মাধ্যম খুজে না পেয়ে আপনার অনুমতি বিহীন গল্পটি আমার ওয়েবসাইটটে প্রকাশ করেছি। আপনি অত্যন্ত আন্তরিকতার নিরিখে চমৎকারভাবে গল্পটি ফুটিয়ে তুলেছেন আপনার লেখনীর মাধ্যমে। আমার বিশ্বাস গল্পটি আপনার একান্ত ব্যক্তিনির্ভর ভালোবাসা থেকেই পাঠক সমাজের জন্য লেখা হয়েছে। তাই আমিও সেই একই লক্ষ্যে নিয়ে আপনার লেখাকে সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই কেবলমাত্র আমার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করলাম। আপনার যদি এতে কোন আপত্তি থাকে তাহলে নিচে দেওয়া ইমেইল এ যোগাযোগ করলে যেকোনো সময় আপনার লেখা গল্প মুছে দিতে বাধ্য থাকবো। সবশেষে আমার হৃদয়ের করিডোর থেকে আন্তরিক মোবারকবাদ এবং ভালোবাসা জ্ঞাপন করছি। মহান আল্লাহ পাক আপনার প্রতি সহায় হোন এবং একইসাথে গল্পটি যদি কখনো আপনার নজরে আসে তাহলে কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত লেখার জন্য অনুরোধ রইলো। 

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url