Natok: The Taming of the shrew | Williams Shakespeare | Translate In Bangla
নাটকের নামঃ দি টেমিং অফ দি শ্রুলেখকঃ উইলিয়াম শেক্সপিয়ার (বাংলা ভার্ষণ)
লুসেনসিও আর বিয়াংকার বিয়ে উপলক্ষ্যে সিনর ভিনসেনসিওর পদুয়ার বাড়ীতে বিরাট ভোজের আয়োজন হয়েছে। ভোজসভায় আছেন সিনর বাপ্তিস্তা, সিনর ভিনসেনসিও, পেক্রশিও, ক্যাথারিন, লুসেনসিও, বিয়াংকা, গ্রেমিও, মান্ডুয়ার বৃদ্ধ ও আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব। যাঁরা বিবাহিত তাঁর সস্ত্রীক এসেছেন। হর্তেনসিও বিয়াংকাকে বিয়ে করতে না পেয়ে বিয়ে করে ফেলেছে এক বিধবা যুবতীকে। সেও সস্ত্রীক নিমন্ত্রিত হয়েছে।
নানা রকম সুখদ্য সামনে। নিমন্ত্রিতরা সবাই খুশী, ভোজ চলবার সময় হর্তেনসিও আর
লুসেনসিও পেক্রশিওর পত্নীলাভ নিয়ে নানা রকম কৌতুক করতে লাগল। পেক্রশিওর পত্নীভাগ্য যে নিতান্তই খারাপ এ বিষয়ে তাদের মনে কোন সংশয় ছিল না। দজ্জাল বৌ যে তার জীবনটাকে ঝালাপালা করে দেবে এরকম ইঙ্গিত তারা করতে লাগল।
![]() |
উইলিয়াম শেক্সপিয়ার এর লেখা জনপ্রিয় নাটক: দ্যা টেমিং অফ দ্যা শ্রু (বাংলা ভার্ষণ) |
ভোজসভা জমে উঠল। জমে উঠল হালকা ঠাট্টা-তামাশা। ঘুরে ফিরে তামাশার ধারাটা একই খাতে বইতে লাগল। তিনটি নতুন বৌ রয়েছে ভোজসভায়। ক্যাথারিন, বিয়াংকা আর হর্তেনসিওর স্ত্রী। এদের মধ্যে বৌ হিসাবে দজ্জাল ক্যাথারিন যে সব চেয়ে খারাপ-সব চেয়ে অযোগ্য, এ কথাটাই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সবাই বলতে লাগল।
পেক্রশিও বেশ ধৈর্যের সঙ্গে এসব ঠাট্টা-তামাশা শুনতে লাগল। ওদের রসিকতার উত্তরে বিশেষ কিছু না বলে সে আপন মনে খেয়ে চলল। ভোজ শেষ হল। মহিলারা ভোজসভা ছেড়ে গল্পগুজব করবার জন্য অন্য একটা ঘরে গেলেন। তারা চলে গেলে এ ঘরে ঠাট্টা-রসিকতার মাত্রাটি আরো বেড়ে গেল। এমনকি বৃদ্ধ বাপ্তিস্তাও যেন নিজের বয়স ভুলে গেলেন। তিনিও তরুণদের রসিকতায় যোগ দিলেন। বললেন, বৎস পেক্রশিও, তুমি সত্যিই ঠকে গিয়েছ। তোমার কপালে জুটেছে এক দজ্জাল আর মুখরা স্ত্রী।
এতক্ষণে পেক্রশিও প্রতিবাদ করল, সে বলল, আপনারা ভুল করছেন। আমার স্ত্রী ক্যাথারিনের মত মেয়ে পাওয়া শক্ত। সে দেখতে সুন্দরী, সে শান্ত, তার স্বভাবটি খুব মিষ্টি। তার কাছে আমার কথা ঈশ্বরের আদেশের মতই অবশ্য পালনীয়। আমার যে পত্নীভাগ্য আছে এ কথাটা স্বীকার করতেই হবে।
পেক্রশিওর কথা শুনে সবাই হেসে উঠল। পেক্রশিও উত্তেজিত ভাবে বলল, আপনাদের বিশ্বাস হচ্ছে না! ভাবছেন আমি মিছে কথা বলছি। কিন্তু আমার কথাগুলো যে সম্পূর্ণ সত্য তা প্রমাণ করে দিতে পারি। আসুন, এ ব্যাপারে একটা বাজি ধরা যাক।
কি রকম বাজি?
আসুন, আমরা তিনজনেই নিজের নিজের স্ত্রীকে এখানে ডেকে পাঠাই। যার স্ত্রী স্বামীর আদেশ পালন করবার জন্য সবার আগে এ ঘরে আসবে, সেই বাজি জিতবে।
লুসেনসিও আর হর্তেনসিও সঙ্গে সঙ্গে বাজিতে রাজি হয়ে গেল।
এ বাজিতে পেক্রশিও নিশ্চয়ই হেরে যাবে। দজ্জাল ক্যাথারিনের স্বভাবটি যে কি রকম, তা তো ওদের জানতে বাকি নেই। স্বামী ডাকল আর ক্যাথারিন অমনি বাধ্য স্ত্রীর মত চলে এল, এ কথাটা
তো ভাবাই যায় না।
হর্তেনসিও বলল, কি পরিমাণ অর্থ বাজি ধরা হবে?
লুসেনসিও বলল, বিশ ক্রাউন।
পেক্রশিও বলল, এই সামান্য পরিমাণ অর্থ তো আমি আমার একটা পোষা শিকারী কুকুরের উপর ধরতে পারি। স্ত্রীর উপর আমি ওর বিশগুণ অর্থ বাজি ধরতে চাই। তাহ'লে বাজির অর্থের পরিমাণ হোক একশ ক্রাউন, লুসেনসিও বলল। আপত্তি নেই হর্তেনসিও বলল।
ঠিক আছে আমিও রাজী, পেক্রশিও ঘোষণা করল।
হর্তেনসিও বলল, তা হলে কে প্রথম শুরু করবে? মানে কে প্রথম ডাকবে তার স্ত্রীকে?
লুসেনসিও বলল, আমিই প্রথম শুরু করি। বিয়েন্দেলো, তুই ভিতরের ঘরে গিয়ে প্রভু-পত্নীকে বল, আমি ডাকছি। তিনি যেন এক্ষুণি এখানে আসেন।
বিয়েন্দেলো ভিতরে গেল, কিন্তু ফিরে এল একটু পরেই। এল একলা।
কি রে। কি ব্যাপার? শুকনো মুখে লুসেনসিও জিজ্ঞেস করল।
বিয়েন্দেলো উত্তর দিল, হুজুর, প্রভু-পত্নী বললেন যে, তিনি খুব ব্যস্ত। এখন এ ঘরে আসতে পারবেন না তিনি।
লুসেনসিও বাজিতে হারল। তার মুখখানা কালো হয়ে গেল।
কি! পেক্রশিও চীৎকার করে উঠল, বিয়াংকা বলছে সে ব্যস্ত, এখন আসতে পারবে না এখানে! এটা কি স্ত্রীর পক্ষ থেকে সঠিক উত্তর হল?
ক্যাথারিনের কাছ থেকে যদি তুমি এর চেয়েও খারাপ উত্তর না পাও তবে তোমার ভাগ্য ভাল একথা স্বীকার করতেই হবে।
এবার হর্তেনসিওর পালা। সে তার চাকরকে বলল, যা, আমার স্ত্রীকে গিয়ে বল তিনি যেন এক্ষুণি এ ঘরে আসেন। বলবি আমি আসবার জন্য অনুরোধ করেছি।
-হায় হায় হায়, শেষ পর্যন্ত অনুরোধ করতে হল, পেক্রশিও চীৎকার করে উঠল, না। বল গিয়ে তাকে আসতেই হবে।
হর্তেনসিও বলল, আমার আশঙ্কা তোমার বৌকে এ ঘরে আসবার জন্য অনুরোধ করলেও সে আসবে না।
-দেখা যাক আসে কিনা, পেক্রশিও গম্ভীরভাবে বলল।
চাকর ফিরে এল।
একলাই এল।
হর্তেনসিও জিজ্ঞেস করল, কি রে, তোর প্রভু-পত্নী কোথায়?
চাকর বলল, মা ঠাকরুণ বললেন, আপনি কোন মজার খেলা খেলছেন তিনি আসবেন না। তিনি আরো বললেন দরকার থাকলে আপনি নিজে গিয়ে তাঁকে নিয়ে আসুন।
খারাপ। আরো খারাপ। পেক্রশিও চীৎকার করে উঠল, হর্তেনসিও, তোমার বৌ তাহ'লে কথা
শুনল না-এল না এ ঘরে।
হর্তেনসিওর মাথাটি নীচু হয়ে গেল।
এবার পেক্রশিওর পালা। সে তার চাকরকে বলল, যা তোর প্রভু পত্নীর কাছে গিয়ে বল তাঁকে এক্ষুণি এ ঘরে আসবার জন্য আমি আদেশ করছি।
কেউ ভাবতে পারে নি যে ক্যাথারিন স্বামীর এই আদেশ পালন করবে কিন্তু হঠাৎ সিনর বাপ্তিস্তা দারুণ অবাক হয়ে চীৎকার করে উঠলেন, ঈশ্বরের দোহাই! ঐ তো ক্যাথারিন আসছে।
__________________________________________
নাটকের নামঃ দি টেমিং অফ দি শ্রুলেখকঃ উইলিয়াম শেক্সপিয়ার (বাংলা ভার্ষণ)
ক্যাথারিন ঘরে ঢুকল। স্বামীর সামনে এসে বিনীত ভাবে বলল, এই যে আমি এসেছি। আদেশ কর আমাকে কি করতে হবে।
তোমার বোন বিয়াংকা আর হর্তেনসিওর বৌ কোথায়?
তারা অগ্নিকুণ্ডের পাশে বসে আছে। গল্প করছে।
-যাও, তাদের ডেকে নিয়ে এস এখানে।
স্বামীর আদেশ পালন করবার জন্য ক্যাথারিন এক্ষুণি ঘর ছেড়ে চলে গেল।
ক্যাথারিনের পরিবর্তন দেখে সবাই এত অবাক হয়ে গেল যে কিছুক্ষণ তাদের মধ্যে কেউ কোন কথা বলতে পারল না।
শেষ পর্যন্ত লুসেনসিওই প্রথম ভাষা খুঁজে পেল। নীরবতা ভেঙে সে বলল, হায় ভগবান, এ যে
দেখছি এক আশ্চর্য ব্যাপার! অবাক কাণ্ড!
অবশ্যই হর্তেনসিও বলল, ভাবছি এর অর্থ কি।
এর অর্থ হল শান্তি, পেক্রশিও উত্তর দিল, এর অর্থ হল ভালবাসা আর শান্ত জীবন। এর অর্থ হল
আমিই প্রভু। এর অর্থ সুখ।
সিনর বাপ্তিস্তা বললেন চমৎকার। বৎস পেক্রশিও, আবার বলি চমৎকার! তুমিই বাজিতে জিতলে। তোমার বিয়েতে আমি যৌতুক হিসেবে বিশ হাজার ক্রাউন দিয়েছিলাম। আজকে আমি তোমাকে আরো বিশ হাজার ক্রাউন দেব। আমার দেওয়াই উচিত। কারণ ক্যাথারিন এত পালটে গিয়েছে যে সে যেন এখন আমার অন্য এক মেয়ে। সত্যি কথা বলতে কি ওর এত পরিবর্তন হয়েছে যে ওকে এখন চিনতেই পারছি না আমি। মাত্র ক'দিন আগের দজ্জাল মেয়ে ক্যাথারিনকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ওর মধ্যে। এ আমার নতুন মেয়ে। নতুন মেয়েকেই আমি বিশ হাজার ক্রাউন যৌতুক দেব।
পেক্রশিও শ্বশুরের দিকে তাকিয়ে বলল, আর একটু অপেক্ষা করুন, দেখবেন আপনার মেয়ে আরো কত পালটে গিয়েছে। সে কি ছিল আপনি জানেন। দেখুন এবার সে কি হয়েছে।
বিয়াংকা আব হর্তেনসিওর বৌকে সঙ্গে নিয়ে ক্যাথারিন ঘরে ঢুকল।
লুসেনসিও আর হর্তেনসিওর দিকে তাকিয়ে পেক্রশিও বলল, দেখছ, তোমাদের অবাধ্য স্ত্রীদের বুঝিয়ে-সুঝিয়ে এ ঘরে নিয়ে এসেছে ক্যাথারিন।
ওরা দু'জন চুপ করে রইল। পেক্রশিওর কথার কোন প্রতিবাদ করল না।
তারপর ক্যাথারিনের দিকে তাকিয়ে পক্রশিও বলল, তোমার টুপিটা খুলে ফেল। ওটা তোমাকে মানাচ্ছে না। টুপিটাকে মেঝেতে ফেলে চাও। পা দিয়ে পিষে ফেল ওটাকে।
ক্যাথারিন সঙ্গে সঙ্গে স্বামীর আদেশ পালন করল।
-হায় ভগবান। হর্তেনসিওর স্ত্রী চীৎকার করে উঠল, একি বোকামি! আমাকে দিয়ে এরকম বোকার কাজ কেউ করাতে পারবে না।
পেক্রশিওর দিকে তাকিয়ে বিয়াংকা বলল, আপনি এটাকে বাধ্যতা মনে করতে পারেন, কিন্তু আমি বলব এ বোকামি-চূড়ান্ত বোকামি।
লুসেনসিও বলল, প্রিয় বিয়াংকা, তুমি যদি এমনি বোকামি করতে তাহলে বাজিতে হেরে আমাকে একশ ক্রাউন গুণে দিতে হত না। তোমার বুদ্ধির জন্যই তো আমি বাজিতে একশ ক্রাউন হারলাম।
বিয়াংকা বলল, এটা তোমারই দোষ। এ রকম বাজিতে রাজী হয়ে তুমি বোকামির পরিচয়ই দিয়েছ।
লুসেনসিও একথার উত্তরে আর কিছু বলল না।
পেক্রশিও বলল, ক্যাথারিন, এই সব মহিলাদের কাছে বল-স্বামীর প্রতি তাদের কি কর্তব্য।
ক্যাথারিন যখন মধুরস্বরে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর কর্তব্য সম্পর্কে উপদেশ দিতে লাগল তখন সবাই
অবাক হয়ে শুনতে লাগল তার কথা।
ক্যাথারিন বলতে লাগল পতিভক্তির কথা, স্বামীর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্যের কথা। সে বলল:
স্ত্রীর কর্তব্য হল স্বামীর আজ্ঞা পালন করা। স্বামী অসন্তুষ্ট হতে পারেন এমন কাজ করা স্ত্রীর পক্ষে মোটেই উচিত নয়। স্বামীর সেবা করাই হল স্ত্রীর সবচেয়ে বড় ধর্ম। স্বামী তার সবচেয়ে বড় বন্ধু, সবচেয়ে কাছের মানুষ। বিপদে আপদে স্বামীই স্ত্রীকে রক্ষা করেন। স্ত্রীর জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য আনবার জন্য স্বামী দূরদূরান্তরে ছুটে যান-ছুটে যান ঝঞা-ক্ষুব্ধ সমুদ্রে রুক্ষ মরু প্রান্তরে। যিনি এত করেন তিনি স্ত্রীর কাছে চান একটু ভালবাসা-একটু বাধ্যতা। স্ত্রী যদি স্বামীকে ভাল না বাসে, স্ত্রী যদি স্বামীর বাধ্য না হয় তবে তার চেয়ে বড় দুঃখ আর কি আছে? যে স্ত্রী স্বামীর অবাধ্য হয় সে মহাপাপ করে। স্ত্রীর সব কর্তব্যের উপরে হচ্ছে স্বামীর প্রতি কর্তব্য। এই কর্তব্য ঠিক মত পালন করাই হল স্ত্রীর মহাধর্ম।
ক্যাথারিনের কথা শুনে সবাই তো থ হয়ে গেল। কোথায় গেল সেই দজ্জাল ক্যাথারিন! এ সব তো এক অতি সুশীলা পতিব্রতা নারীর মুখের কথা!
পেক্রশিও সোল্লাসে বলল, চমৎকার বলেছ ক্যাথারিন, চমৎকার!
লুসেনসিও বলল, পেক্রশিও, শেষ পর্যন্ত তুমিই জিতলে।
এ কথা আমিও স্বীকার করছি, হর্তেনসিও বলল।
সিনর বাপ্তিস্তা এবং সিনর ভিনসেনসিও-এঁরা দু'জনেও ক্যাথারিনের আচরণে খুব খুশী হলেন।
পেক্রশিও বলল, তা হলে তোমরা স্বীকার করছ যে আমিই জিতেছি-আমার পত্নীভাগ্যই সবচেয়ে ভাল।
-নিশ্চয়ই, লুসেনসিও এবং হর্তেনসিও সমস্বরে উত্তর দিল।
-বেশ, আমি তোমাদের শুভরাত্রি জানাচ্ছি। অনেক রাত হয়েছে। এবার বিশ্রামের প্রয়োজন। চল ক্যাথারিন।
ক্যাথারিনকে নিয়ে পেক্রশিও চলে গেল।
পদুয়া নগরীতে ক্যাথারিন বিখ্যাত হয়ে গেল। দজ্জাল এবং মুখরা হিসেবে নয়, সবচেয়ে
বাধ্য.... সবচেয়ে কর্তব্য পরায়ণ স্ত্রী হিসেবে।
দজ্জালকে পোষ মানাবার কাহিনী এখানেই শেষ হল।