নাটক: দি টেমিং অফ দি শ্রু। উইলিয়াম শেক্সপিয়ার
নাটকের নামঃ দি টেমিং অফ দি শ্রুলেখকঃ উইলিয়াম শেক্সপিয়ার (বাংলা ভার্ষণ)
শেষ পর্যন্ত ওরা তিনজন পেক্রশিওর বাড়ীতে এসে পৌঁছাল। বিচিত্র বাহনে দীর্ঘপথ এসে ক্যাথারিন খুব ক্লান্ত ও ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ল। কিন্তু পেক্রশিও স্থির করল যে সে সেরাতে বৌকে খেতে বা বিশ্রাম করতে দেবে না।
বাড়িতে ঢুকেই সে চীৎকার করে, উঠল, "কই তোরা সব কোথায় গেলি সব? শীগগীর খাবার দাবার নিয়ে আয়। তোদের গিন্নীমা ক্ষিধেয় কাতর হয়ে পড়েছেন। তাড়াতাড়িতে তিনি নিজের বিয়ের নেমন্তন্নটা পর্যন্ত খেয়ে আসতে পারেন নি।
![]() |
দি টেমিং অফ দি শ্রু । উইলিয়াম শেক্সপিয়ার। |
তার চীৎকার শুনে চাকরবাকরেরা ছুটে এল। পেক্রশিও তাদের দেখে গর্জন করে উঠল।
নিয়ে যা, এসব অখাদ্য কুখাদ্য নিয়ে যা টেবিল থেকে। আমার নতুন বৌ এই প্রথম আমার বাড়ীতে এল। তার জন্য কিনা এরকম জঘন্য খাবার!
তারপর ক্যাথারিনের দিকে তাকিয়ে মোলায়েম সুরে বলল, তোমাকে ভালবাসি আর সে জন্যই এরকম করছি। তুমি আমার বৌ, তোমাকে তো আমি অখাদ্যকুখাদ্য খেতে দিতে পারি না।
ক্যাথারিন কিন্তু রান্নার মধ্যে কোন খুঁত দেখতে পায়নি। তাছাড়া সেই ক্ষিধের সময় রান্নায় একটু-আধটু খুঁত থাকলেও সে তা গ্রাহ্যের মধ্যেই আনত না। কিন্তু সে কোন প্রতিবাদ করল না। নিজের অহঙ্কারের জন্যই সে চুপ করে রইল। কেবল বলল, আমি বড় ক্লান্ত। এখন আমি একটু ঘুমোতে চাই।
না খেয়ে, স্বামীর চীৎকারে আরো ক্লান্ত হয়ে ক্যাথারিন বিশ্রাম করতে গেল। কিন্তু তার কপালে বিশ্রাম নেই। পেক্রুশিও বিছানার নানা খুঁত ধরতে আরম্ভ করল।
হা কপাল। এ কি বিছানা? এ কি রকম বিশ্রী চাদর? বালিশগুলো দেখছি পাথরের মত শক্ত। এই কি নতুন বৌ এর বিছানা? বাড়ীতে একপাল ঝি চাকর পুষছি...কিন্তু কোনটার যদি একটু কাণ্ডজ্ঞান থাকে।
সুন্দর দামী বিছানাটাকে খাট থেকে টেনে তুলে মেঝের উপর ফেলে দিল পেক্রশিও। ক্যাথারিন একখানা শক্ত কাঠের চেয়ারে বসে রইল, কিন্তু সেখানেও কি ঘুমোবার উপায় আছে। স্বামীর ক্রুদ্ধ গর্জনে বারবার তার তন্দ্রা কেটে যেতে লাগল। সারারাত ধরে ঝি চাকরদের বকাবকি করল পেক্রশিও।
পরের দিনটাও একই ভাবে কাটল। তোমাকে ভালবাসি, আর সেজন্যই খারাপ তো আর খেতে দিতে পারি না, এ কথা বলে পেক্রশিও প্রাতরাশের চমৎকার খাবারগুলিকেও ছুঁড়ে ফেলে দিল।
ক্যাথারিনের এত ক্ষিধে পেয়েছিল যে নিজের অহঙ্কারকে হজম করে সে গোপনে চাকরদের কাছে কিছু খাবার চাইল, কিন্তু তারা দিতে পারল না। কি করে দেবে? বাড়ীর কর্তা পেক্রশিও কড়া আদেশ দিয়েছে তার সামনে ছাড়া নতুন বৌকে যেন কোন খাবার দেওয়া না হয়।
দু'দিন কিছু খাওয়া হয়নি। ক্ষিধেয় অস্থির হয়ে উঠল ক্যাথারিন।
ক্যাথারিনের মনে একই সঙ্গে রাগ আর দুঃখ, সে ভাবল, লোকটা কি না খাইয়ে মারবার জন্যই আমাকে বিয়ে করেছে। আমার বাপের বাড়ীর দরজায় যে সব ভিখারীরা ভিক্ষে করবার জন্যে আসে, আমার অবস্থা দেখছি তাদের চাইতেও খারাপ, দরজায় আশা ভিখারীরা শুধু মুখে ফিরে যায় না, তাদের কিছু না কিছু খেতে দেওয়া হয়, আর এখানে আমি দু'দিন ধরে কিছু খেতে পাইনি। একটু ঘুমোতে পারিনি। আমার দু'চোখের পাতা একটু বুজে এলেই লোকটা এমন চীৎকার চেঁচামেচি শুরু করে যে ঘুম আঁতকে উঠে পালাবার পথ খুঁজতে থাকে। ও বলে আমাকে ভালবাসে বলেই নাকি ও এমনি আচরণ করে। কিন্তু ভালবাসার যে নমুনা দেখছি তাতে আমি প্রাণে বাঁচলে হয়।
কিন্তু একলা বসে নিজের ভাগ্যের কথাটুকু পর্যন্ত ভাববার সুযোগ পেল না ক্যাথারিন। পেক্রশিও ঘরে ঢুকল। তার হাতে একখানা প্লেট। প্লেটে ছোট্ট এক টুকরো মাংস।
এক গাল হেসে পেক্রশিও বলল, এই যে আমার মিষ্টি কেট! কেমন আছ? এখানে তোমার কোন
অসুবিধা হচ্ছে না তো?
ক্যাথারিন মুখ গোমড়া করে বসে রইল। তার দিকে প্লেটখানা এগিয়ে ধরে পেক্রশিও বলল, দেখ, তোমার কথা আমি কত চিন্তা করি, তোমার খাবার জন্য এই মাংস আমি নিজে রান্না করেছি। আমার বিশ্বাস এ রান্না তোমার খুব পছন্দ হবে। মাংস খেয়ে তুমি তারিখ করবে।
ক্যাথারিন এত রেগে গিয়েছিল যে তার মুখে কোন কথা ফুটল না। সে রাগে কাঁপতে লাগল।
-একি! মুখে একটিও কথা নেই কেন? পেক্রশিও জিজ্ঞেস করল।
পেক্রশিও বলল, ও বুঝেছি, তোমার বোধ হয় ক্ষিধে নেই। দূর বৃথাই এত ঝামেলা করলাম।
আমার সবটুকু পরিশ্রমই জলে গেল।
একটা চাকরকে ডাকল পেক্রশিও। সে আসতে বলল, ওরে এই মাংসের প্লেটটা নিয়ে যা।
দু'দিন কিছু না খেয়ে ক্যাথারিনের এত ক্ষিধে পেয়েছে যে সে আর অহঙ্কারটাকে বজায়রাখতে পারল না। সে খুবই রেগে গিয়েছে কিন্তু রাগকেও হারিয়ে দিয়েছে তার প্রচণ্ড ক্ষুধা। অহঙ্কার হজম করে সে বলল, দয়া করে মাংসের প্লেটখানা এখানে রেখে যাও।
-নিশ্চয়ই রাখব। কিন্তু তার আগে তুমি আমাকে ধন্যবাদ দাও।
ধন্যবাদ মশাই।
নিতান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও ক্যাথারিন বলল। এরপর পেক্রশিও একটি চাকরকে ক্যাথারিনের জন্য সামান্য কিছু খাবার আনতে হুকুম দিল। চাকর খুবই সামান্য খাবার নিয়ে এল। কিন্তু সেটুকু পেয়েই ক্যাথারিন মহাখুশী।
সে সবে খেতে আরম্ভ করেছে, অমনি পেক্রশিও প্লেটখানা তুলে নিয়ে চাকরের হাতে দিয়ে বলল, যা এটা নিয়ে যা।
তারপর হতবাক ক্যাথারিনের দিকে তাকিয়ে বলল, প্রিয় কেট, দেখছি তোমার একদম ক্ষিধে নেই। ঠিক আছে, এবার তোমাকে একটা চমৎকার জিনিষ দেখাব। দেখে তুমি নিশ্চয়ই খুব খুশী হবে। তোমার জন্য খুব সুন্দর টুপী আর পোশাকের অর্ডার দিয়েছিলাম। এস, এবার সেগুলি দেখা যাক। টুপীওয়ালা আর দরজী এতক্ষণে নিশ্চয়ই তাদের জিনিস নিয়ে এসে গিয়েছে।
_________________________________________________
নাটকের নামঃ দি টেমিং অফ দি শ্রুলেখকঃ উইলিয়াম শেক্সপিয়ার (বাংলা ভার্ষণ)
'হ্যাঁ সত্যিই এসে গিয়েছে তারা। অপেক্ষা করছে বাইরে। পেক্রশিও প্রথমে টুপীওয়ালাকে ডাকল। সে এসে বলল, এই যে হুজুর, আপনি যেরকম টুপী বানাবার জন্য হুকুম করেছিলেন, সেরকম টুপীই তৈরী করে নিয়ে এসেছি।
পেক্রশি টুপীটার দিকে একবার তাকিয়েই ক্রুব্ধ স্বরে চীৎকার করে উঠল, আমি এরকম টুপী বানাবার হুকুম দিইনি। কেন দেব। এটা তো সুপারীর খোলার চেয়ে বড় নয়। তোমার এ টুপী নিয়ে যাও। এটাকে আরো বড় করে তৈরী করে নিয়ে এস।
-আমি ঐ টুপীটাই নেব, ক্যাথারিন বলল, সমস্ত ভদ্রমহিলাই ওরকম টুপী পরে থাকেন।
-তুমি যখন ভদ্রমহিলা হবে তখন ওরকম টুপী পাবে, তার আগে নয়, পেক্রশিও উত্তর দিল।
অল্প হলেও একটু খাবার খেয়েছে ক্যাথারিন। শরীরের শক্তিও খানিকটা ফিরে পেয়েছে। সে তেজের সঙ্গে বলল, আমি বলব। আমার যা খুশী তাই বলব। তোমার শুনতে ভাল না লাগলে তুমি কান বন্ধ করে রাখতে পার।
মনে হল তার রাগের কথাগুলো পেক্রশিও মোটেই শুনতে পায়নি। ক্যাথারিনের কথার উত্তরে সে বলল, তুমি ঠিক বলেছ গিন্নী। এটা একটা বাজে বিশ্রী টুপী। তুমি যে এটা পছন্দ করতে পারনি তাতে বুঝলাম যে তোমার রুচি বোধটা বেশ প্রখর। তোমার উপরে আমার ভালোবাসাটা যে আরো বেড়ে গেল।
-আমাকে ভালবাস বা নাই ভালবাস, টুপীটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে। আমি এ টুপীটাই নেব। অন্য কোন টুপীর দরকার নেই আমার।
পেক্রশিও ক্যাথারিনের কথায় কোন কানই দিল না। যে শুনতেই পেল না তার কথা। সে বলল, তোমার জন্য যে পোশাকটা তৈরি করবার হুকুম দিয়েছি, সেটা তুমি দেখতে চাইছ? ঠিক আছে এক্ষুণি দেখতে পাবে। ওরে কে আছিস, দরজীকে এখানে নিয়ে আয়।
চাকরের সঙ্গে দরজী এল, তার হাতে একটি চমৎকার পোশাক। সঙ্গে সঙ্গে পেক্রশিও পোশাকের
খুঁত ধরতে শুরু করল।
একি পোশাক তৈরি করেছ। কাপড়টা সস্তা-বাজে। কাটছাটও জঘন্য। আমার স্ত্রী অভিজাত বংশের মেয়ে-অভিজাত বংশের বৌ। তিনি এরকম বাজে পোশাক কিছুতেই পছন্দ করবেন না। তাঁর বংশ মর্যাদার কথা মনে রেখেই তোমার পোশাক তৈরি করা উচিত ছিল।
-হুজুর, আপনি যে রকম পোশাক তৈরী করবার হুকুম দিয়েছিলেন আমি তো সে রকম পোশাকই তৈরী করেছি। এটাই তো হালফ্যাশানের পোশাক।
-এর চেয়ে সুন্দর পোশাক আমি কোনদিন দেখিনি, ক্যাথারিন বলল।
কিন্তু কে শোনে কার কথা, পেক্রশিও আবার তর্জন-গর্জন শুরু করল। অবশ্য সে আগেই টুপীওয়ালা আর দরজীকে তাদের জিনিষের দাম মিটিয়ে দিয়েছিল, শুধু তাই নয়, নিজের অদ্ভুত ব্যবহারের জন্যও সে ওদের দু'জনকে কিছু অতিরিক্ত অর্থ বকশিস দিয়ে রেখেছিল। কাজেই গোটা ব্যাপারটাই ছিল সাজানো।
যাই হোক, তর্জন-গর্জন করে আর দু'এক ঘা মেরে টুপীওয়ালা আর দরজীকে তো বিদায় করা হল। তারপর ক্যাথারিনের দিকে তাকিয়ে কোমল গলায় পেক্রশিও বলল, নাঃ ন'তুন পোশাক আর হল না। আমরা যে পোশাক পরে আছি সেই পোশাকেই তোমার বাপের বাড়ী যেতে হবে। একটু অপেক্ষা কর। আমি চাকরদের ঘোড়া তৈরী করতে বলি।
বাপের বাড়ী যাওয়া হবে শুনে ক্যাথারিন তো আহাদে আটখানা। সে বলল চল, তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়া যাক।
পেক্রশিও বলল, হ্যাঁ চল। এখন বেরোলে দুপুরের খাওয়ার আগেই আমরা তোমার বাপের বাড়ীতে পৌঁছে যাব। বেলা তো হয়নি। এখন তো সবে সকাল সাতটা।
সকাল সাতটা! লোকটা বলে কি। বেলা তো গড়িয়ে গিয়েছে। স্বামীর কতা শুনে ক্যাথারিন অবাক হয়ে গেল যে কিছুক্ষণ কোন কথাই বলতে পারল না। তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, তুমি বলছ কি? এখন তো বেলা দুটো বাজে। এক্ষুণি রওনা দিলে হয়ত আমরা রাতের খাবার সময় পৌছতে পারব।
ক্যাথারিনের প্রতিবাদ শুনে পেক্রশিও বুঝল যে এখনও তার বৌ পোষ মানেনি। সে খুশী হল না। সে চাইল যে সে যা বলবে তার সঙ্গেই ক্যাথারিন একমত হবে।
দেখছি, আমি যা বলি বা করি, তুমি এখনও তার বিরুদ্ধে। এখনও তুমি আমার কথার প্রতিবাদ করে যাচ্ছ। ঠিক আছে, আজকে আর তোমাদের বাড়ি যাব না। ঘড়ি যেদিন আমার কথামত সময় দেবে, সেদিনই আমি ভেরোনা থেকে বাইরে যাব। তার আগে আমি এ জায়গা ছেড়ে নড়ছি না।
ক্যাথারিন চুপ করে রইল। একটি কথাও বলল না।
_________________________________________________
নাটকের নামঃ দি টেমিং অফ দি শ্রুলেখকঃ উইলিয়াম শেক্সপিয়ার (বাংলা ভার্ষণ)
বাপের বাড়ীতে সেদিন আর যাওয়া হল না। ক্যাথারিনকে থাকতে হল ভেরোনাতেই। তাকে স্বামীর অনুগত আর বাধ্য হবার পাঠ নিতে হল। যখন পেক্রশিও তার আচরণে সন্তুষ্ট হল তখন সে বৌকে নিয়ে রওনা দিল বাপ্তিস্তার বাড়ির দিকে।
কিন্তু কিছুদূর এগিয়েই হঠাৎ পেক্রশিও ঘোড়ার মুখটা প্রায় ঘুরিয়ে দিল। বলল, দেখ কেট, আকাশে কি সুন্দর চাঁদ উঠেছে। চাঁদ কেমন উজ্জ্বল কিরণ দিচ্ছে! চাঁদের আলোয় এবার আমরা পথ চলব।
ক্যাথারিন অবাক হয়ে বলল, চাঁদ! চাঁদ কোথায়? এখন তো আকাশে সূর্য। রোদে চারদিকে ঝলমল করছে। এখন জ্যোৎস্না কোথায়?
পেক্রশিও বলল, আমি বলছি, কেমন চমৎকার স্নিগ্ধ জ্যোৎস্না!
ক্যাথারিন বলল, আমি বলছি, কি সুন্দর ঝলমলে রোদ!
পেক্রশিও রেগে গেল। ক্যাথারিন এখন তাঁর কথার প্রতিবাদ করছে!
সে ক্রুদ্ধস্বরে বলল, আমি যদি মায়ের বেটা হই-আমি নিশ্চয়ই আমার মায়ের ছেলে-তাহলে এ হয় চাঁদ, নয়তো তারা। আমার কথা যদি ঠিক না হয় তবে আর তোমার বাপের বাড়িতে যাব না। এক্ষুণি ঘোড়ার মুখ ঘুরিয়ে দেব ভেরোনার দিকে।
ক্যাথারিন ভাবল, এতদূর এসে আবার ফিরে যাব। তার চেয়ে মেজাজী বরটির কথাতেই সায় দিই না কেন। একথা ভেবে সে বলল, তুমি ঠিকই বলেছ। এ হচ্ছে চাঁদ। পেক্রশিও বলল, না না তুমি মিছে কথা বলছ! আকাশে তো এখন সূর্য। দেখছ না, কেমন চমৎকার রোদ!
-তা হলে আকাশে এখন সূর্যদেবই রয়েছেন, স্বামীর কথার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্যাথারিন বলল।
ওরা দু'জনে আবার এগিয়ে চলল সিনর বাপ্তিস্তার বাড়ীর দিকে।
কিছুদূর এগোবার পর পেক্রশিও পরীক্ষা করে দেখতে চাইল ক্যাথারিন কতখানি পোষ মেনেছে-কতটা অনুগত হয়েছে।
এক বৃদ্ধ ভদ্রলোক যাচ্ছিলেন পদুয়ার দিকে। তার সঙ্গে ওদের স্বামী-স্ত্রীর দেখা হয়ে গেল। বৃদ্ধ হলেন পিসা নগরের ভিনসেনসিও। ছেলে লুসেনসিও ব্যবসার কাজ দেখবার জন্য পদুয়াতে এসেছে। অনেকদিন হয়ে গেল কিন্তু ছেলের কাছ থেকে কোন খবর পাননি ভিনসেনসিও। ছেলে কেমন আছে...সে কি রকম কাজকর্ম দেখাশোনা করছে-এ সব জানবার জন্য বৃদ্ধ ভিনসেনসিও নিজেই পদুয়ানগরের দিকে চলেছেন।
বেশ বয়স হয়েছে তাঁর। মাথার সব চুল পেকে সাদা হয়ে গিয়েছে। মুখে অসংখ্য বলিরেখা। শরীরের চামড়া ঝুলে পড়েছে।
ভিনসেনসিওকে দেখে পেক্রশিও আর এক অদ্ভুত আচরণ করল। বৃদ্ধের দিকে এগিয়ে গিয়ে সে
উচ্ছ্বসিত কন্ঠে বলল।
শুভ নিন, সুন্দরী কুমারী। কোথায় চলেছেন?
বুড়ো ভিনসেনসিও তো এরকম সম্ভাষণ শুনে আকাশ থেকে পড়লেন। তাকে বলে কিনা সুন্দরী! লোকটার নিশ্চয়ই মাথা খারাপ হয়েছে।
ক্যাথারিনের দিকে ফিরে পেক্রশিও বলল, দেখ কেট, এই সুন্দরী কুমারীটিাক দেখ। এর চেয়ে সুন্দরী মেয়ে কি তুমি কোনদিন দেখেছ? মেয়েটির দু'টি গাল গোলাপ ফুলের মত। চোখ দু'টি যেন মেঘহীন আকাশে দু'টি উজ্জ্বল তারকা। কেট তুমি এস। মেয়েটির সঙ্গে আলাপ কর। ওর গোলাপী গাল দ'টিতে চুমু খাও।
তারপর আবার বৃদ্ধ ভিনসেনসিওর দিকে তাকিয়ে বলল, মিষ্টি কুমারী, আপনার আজকের দিনটা শুভ হোক।
ইতিমধ্যে দজ্জাল ক্যাথারিন সম্পূর্ণ পোষ মেনে গিয়েছে। স্বামীর কথামত বৃদ্ধের কাছে গিয়ে সে বলল, সুপ্রভাত কুমারী। তুমি কি সুন্দর! তোমার মুখখানি কি মিষ্টি! সুন্দরী তরুণী, তুমি কোথায় চলেছ? কোথা থেকেই বা আসছ তুমি? তোমার বাবা ভাগ্যবান... মা ভাগ্যবতী। যাঁদের এমন সুন্দরী মেয়ে সত্যি সত্যিই তাঁদের কি সৌভাগ্য?
ভিনসেনসিও এবার আরো অবাক হয়ে গেলেন। এই সুন্দর মেয়েটার কি দৃষ্টিশক্তি নেই? নাকি সঙ্গীর মত এরও মাথায় দোষ আছে?
হঠাৎ পেক্রশিও চীৎকার করে উঠল, কেট, তুমি কি পাগল হয়েছ? কাকে কি বলছ তুমি! উনি তো তরুণী কুমারী নন, উনি একজন বৃদ্ধ ভদ্রলোক।
ক্যাথারিন তখন বৃদ্ধকে বলল, দয়া করে আমাকে ক্ষমা করুন। আমি খুব ভুল করেছি। খুবই অন্যায় করে ফেলেছি আমি। আসলে রোঁদের তেজে আমার চোখ দু'টো বাঁধিয়ে গিয়েছিল। সব কিছুই তরুণ আর সবুজ বলে মনে হচ্ছিল। স্বামীর কথায় আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। এখন দেখছি আপনি একজন মাননীয় বৃদ্ধ ভদ্রলোক। আমি যে নিতান্ত নির্বাধের মত ভুলটা করে ফেলেছি আশাকরি সেজন্য আপনি আমাকে ক্ষমা করবেন।
পেক্রশিও বলল, দয়া করে আমার স্ত্রীকে ক্ষমা করুন। এবার বলুন আপনি কোথায় যাচ্ছেন? আপনি যদি আমাদের গন্তব্যস্থানের দিকে যান, তবে একসঙ্গে যাওয়া যেতে পারে। আপনাকে সঙ্গী হিসেবে পেলে আমরা খুব খুশী হব।
ক্যাথারিন আর পেক্রশিওর কথাবার্তা শুনে বৃদ্ধ ভিনসেনসিও খুব অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ভদ্র এবং সংযত ভাবে বললেন, আমার নাম ভিনসেনসিও। বাড়ী পিসানগরে। আমি আমার ছেলের বিয়েতে পদুয়া যাচ্ছি। আমার ছেলে লুসেনসিও বিয়ে করতে যাচ্ছে সিনর বাপ্তিস্তার ছোট মেয়ে বিয়াংকাকে।
পেক্রশিও বলল, আমার স্ত্রী ক্যাথারিন তো বিয়াংকারই বড় বোন। আমরাও সিনর বাপ্তিস্তার বাড়ীতে যাচ্ছি। চলুন এক সঙ্গেই যাওয়া যাক।
তিনজনে এগিয়ে চললেন পদুয়া নগরের দিকে।
_________________________________________________
নাটকের নামঃ দি টেমিং অফ দি শ্রুলেখকঃ উইলিয়াম শেক্সপিয়ার (বাংলা ভার্ষণ)
এবার পদুয়ার ঘটনাগুলির কথা বলা দরকার। বড় মেয়ে ক্যাথারিনের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। এবার ছোট মেয়ে বিয়াংকার বিয়ে দিতে আর কোন আপত্তি নেই সিনর বাপ্তিস্তার। কিন্তু কার সঙ্গে ছোট মেয়ের বিয়ে দেবেন তিনি? অনেক তরুণ যুবকই তো সুন্দরী বিয়াংকাকে বিয়ে করতে চাইছে। এদের মধ্যে আছে গ্রেমিও, হর্তেনসিও আর লুসেনসিও। অবশ্য আসলে লুসেনসিও তখনও ছদ্মবেশী শিক্ষক সেজে বিয়াংকাকে সাহিত্য পড়াবার ভাণ করে যাচ্ছে। সিনর বাপ্তিস্তা যাকে লুসেনসিও বলে জানেন সে হল ব্রানিও।
এরকম অবস্থায় মেয়ের জন্য পাত্র বাছাই করা সত্যিই খুব শক্ত কাজ। অন্য লোক হলে এ অবস্থায় কি করত তা বলা শক্ত। কিন্তু সিনর বাপ্তিস্তা কাজটাকে খুব সহজ করে ফেললেন। বিয়াংকাকে যারা বিয়ে করতে চায় তাদের ডেকে তিনি বললেন, ছোট মেয়ের বিয়েতে আমি যৌতুক দেব বিশ হাজার ক্রাউন। আর আমার মৃত্যুর পর সে আমার সম্পত্তির অর্ধেক অংশ পাবে। এখন বল তোমাদের কে কত যৌতুক দিতে পারবে? তোমাদের কার কি পরিমাণ সম্পত্তি আছে! একথা জিজ্ঞেস করবার কারণ হচ্ছে এই যে স্বামীর যদি আগে মৃত্যু হয় তবে বিয়াংকা কতটা সম্পত্তি পাবে সেটা জেনে নেওয়া। যে বেশী যৌতুক দেবে এবং যার সম্পত্তির পরিমাণ বেশী তার সঙ্গেই আমি ছোট মেয়ের বিয়ে দেব। এ ব্যাপারে এই আমার শেষ কথা।
গ্রেমিও তার সম্পত্তির ফিরিস্তি দিল। কিন্তু দেখা গেল তার চাইতে হর্তেনসিওর ঐশ্বর্যের পরিমাণ বেশী। তাছাড়া বিয়াংকার তুলনায় গ্রেমিওর বয়সটাও একটু বেশী। সুতরাং তাকে বাধ্য হয়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে পিছু হটতে হল। এবার আসরে রইল হর্তেনসিও আর লুসেনসিও।
লুসেনসিও হর্তেনসিওর চাইতেও বেশী ধনী। কিন্তু তার বাবা ভিনসেনসিও জীবিত আছেন।
সম্পত্তির মালিক বৃদ্ধ ভিনসেনসিও। বেঁচে থাকলে লুসেনসিও ভবিষ্যতে বিরাট সম্পত্তির মালিক হবে ঠিকই, কিন্তু বর্তমানে তার কোন সম্পত্তির মালিকানা নেই।
সব কথা শুনে সিনর বাপ্তিস্তা লুসেনসিও-বেশী ত্রানিওকে বললেন, আমি তোমার বাবার সঙ্গে কথা বলতে চাই। তিনি যদি এখানে এসে তাঁর সমস্ত সম্পত্তি তোমাকে এবং তোমার অকাল মৃত্যু হলে আমার ছোট মেয়েকে দিতে রাজী থাকেন তবে তোমার সঙ্গে বিয়াংকার বিয়ে দিতে আমার কোন অমত হবে না।
বাবা! এবার লুসেনসিও-বেশী ব্রানিও সত্যি সত্যিই ঘাবড়ে গেল। মনিবের বাবা তো রয়েছেন দূর পিসা নগরে, তাঁর কাছে গিয়ে সব কথা খুলে বলবার মত বুকের পাটা নেই ত্রানিওর। তিনি যদি এখানে আসেন তবে তো ত্রানিও ধরা পড়ে যাবে। তখন হবে বেইজ্জতের একশেষ। সিনর বাপ্তিস্তা হয়ত রেখে গিয়ে লুসেনসিওর সঙ্গে ছোট মেয়ের বিয়েই দেবেন না। ওদের সমস্ত পরিকল্পনাটাই হয়ত ভেস্তে যাবে। তাহলে উপায়?
হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকের মত একটা চিন্তা ত্রানিওর মাথায় খেলে গেল। আচ্ছা, কাউকে ভিনসেনসিও হিসেবে সাজিয়ে নিয়ে এলে হয় না। নিশ্চয়ই হয়। সিনর বাপ্তিস্তা তো সিনর ভিনসেনসিওকে দেখেননি, কাজেই এ ক্ষেত্রে অসুবিধাটা কোথায়?
ঠিক আছে। সিনর বাপ্তিস্তার কাছে সিনর ভিনসেনসিওই আসবেন, তবে সে লোকটি হবেন সাজানো ভিনসেনসিও।
কিন্তু এ ব্যাপারেও একটু মুশকিল আছে। ত্রানিও পদুয়া শহরে নতুন এসেছে। এখানকার লোকজনের সঙ্গে তাঁর বিশেষ পরিচয় নেই। ভিনসেনসিও সাজবে এমন লোক সে যোগাড় করবে কি করে? নাঃ ত্রানিও সত্যিই খুব মুশকিলে পড়ে গিয়েছে!
তা মুশকিল আসান হল। বিয়েন্দেলাই লোক যোগাড় করে দিল। লোকটিকে সে নিয়ে এল ত্রানিওর কাছে। সত্যিই তো, মনিব ভিনসেনসিওর সঙ্গে এ বৃদ্ধের চেহারার কিছুটা মিল আছে।
ত্রানিও লোকটিকে সাদর অভ্যর্থনা করে বলল, আসুন সিনর, আসুন। কতদূর থেকে আসছেন? কোথায় যাবেন?
-আসছি মাতুয়া থেকে। আপাততঃ রোম পর্যন্ত যাবার ইচ্ছা, তারপর ঈশ্বরের ইচ্ছা থাকলে যাব সুদূর ত্রিপলি পর্যন্ত।
-আপনি কি মান্ডুয়ার লোক? ত্রানিও প্রশ্ন করল।
-হ্যাঁ, বৃদ্ধ উত্তর দিলেন।
-সর্বনাশ! করেছেন কি? মান্ডুয়ার লোক হয়ে পদুয়ায় এসেছেন?
শঙ্কিত স্বরে ত্রানিও বলল। অবশ্য এই শঙ্কাটা অভিনয় ছাড়া আর কিছুই নয়।
-কেন কি হয়েছে তাতে? বিচলিত স্বরে বৃদ্ধ প্রশ্ন করল?
-আপনার কি প্রাণের ভয় নেই?
-আপনি দেখছি কোনো খবরই রাখেন না।
-প্রাণের ভয়? কি বলছেন আপনি?
মান্ডুয়া আর পদুয়ার মধ্যে এখন খুব গণ্ডগোল চলছে। মানুয়ার কোন লোক পদুয়ায় এলে তার মৃত্যু নিশ্চিত।
বৃদ্ধ ঘাবড়ে গিয়ে বললেন, তা হ'লে উপায়?
উপায় একটা আছে, ত্রানিও এমন সুরে কথাগুলো বলল যেন সে বৃদ্ধের কত হিতাকাঙ্খী!
-বলুন, এখন কি করতে হবে আমাকে? কাঁপা গলায় বৃদ্ধ প্রশ্ন করলেন।
বৃদ্ধের প্রশ্নের সোজা উত্তর না দিয়ে ত্রানিও জিজ্ঞেস করল, আপনি কি পিসায় গিয়েছেন?
-হ্যাঁ, চমৎকার শহর। সেখানে খানদানী লোকের বাস।
-সিনর ভিনসেনসিওকে চেনেন?
-চিনি না, তবে নাম শুনেছি। শুনেছি তিনি নাকি একজন ধনকুবের, বৃদ্ধ বললেন।
ত্রানিও বলল, তিনি আমার বাবা। তাঁর মুখের সঙ্গে আপনার মুখের খানিকটা মিল আছে। আপনি সিনর ভিনসেনসিও নাম নিয়ে আমাদের এখানকার বাড়ীতে থাকবেন। কেউ জানতে পারবে না যে আপনি মাতুয়ার নাগরিক। ব্যস, তাহলে আর আপনার প্রাণের ভয়ে থাকবে না। এবার বলুন, আমার প্রস্তাবে রাজী আছেন কিনা।
স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বৃদ্ধ বললেন, নিশ্চয়ই রাজী আছি।
ত্রানিও বলল, এবার শুনুন আর একটা কথা। আমি সিনর বাপ্তিস্তার মেয়েকে বিয়ে করব বলে ঠিক করেছি। বাপ্তিস্তা বলেছেন যে যৌতুকের ব্যাপারে তিনি আমার বাবার সঙ্গে আলোচনা করতে চান। বাবাকে খবর পাঠিয়ে এখানে আনাতে অনেকটা দেরী হয়ে যাবে। আপনিই আমার সঙ্গে গিয়ে যৌতুকের ব্যাপারটা ঠিক করে আসবেন। সিনর বাপ্তিস্তা আমার বাবাকে দেখেন নি। কাজেই আপনি আমার বাবা সেজে গেলে তিনি ফাঁকিটা ধরতেই পারবে না। বৃদ্ধ বললেন, এ ব্যাপারের একটু মুশকিল আছে যে বাপু।
-কিসের মুশকিল?
-ভাবছি, সিনর বাপ্তিস্তা যদি আমাকে চিনে ফেলেন।
-তিনি আপনাকে চেনেন নাকি?-তিরিশ বছর আগে জেনোয়াতে আমাদের আলাপ পেয়েছিল। আমরা দু'জনে একই হোটেলে উঠেছিলাম। রহ্যাঁ পেগাসাস হোটেলে।
-তারপর তো আর আপনাদের দেখা হয়নি?
-না, তা হয়নি।
-তা হলে কোন চিন্তা করবেন না। উনি তিরিশ বছর আগের আলাপী লোককে চিনতেই পারবেন না। এতদিনে আপনার চেহারার কত পরিবর্তন হয়েছে। তিরিশ বছর আগে আপনি ছিলেন যুবক আর আজ আপনি বৃদ্ধ। সুতরাং আপনি নিশ্চিন্তে সিনর ভিনসেনসিও হিসাবে সিনর বাপ্তিস্তাত্ত্ব কাছে যেতে পারেন।
নকল ভিনসেনসিওকে নিয়ে লুসেনসিও বেশী ব্রানিও সিনর বাপ্তিস্তার সঙ্গে আলোচনায় বসেছে। বিয়েতে বরপক্ষ আর কনেপক্ষ কে কি পরিমাণ যৌতুক দেবে তাই নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। নকল ভিনসেনসিও উদারভাবে ভাবী পুত্রবধূকে অনেক কিছু দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন। শুনে সিনর বাপ্তিস্তা তো মহাখুশী। আলোচনা সভা বসেছে ভিনসেনসিওর পদুয়ার বাড়ীতেই।
আলোচনা শেষ হবার আগেই আসল ভিনসেনসিওর সেই বাড়ীতে এসে গেলেন। পেক্রশিও আর ক্যাথারিন তাঁর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সিনর বাপ্তিস্তার বাড়িতেই চলে গিয়েছিল।
এবার আসল আর নকল ভিনসেনসিওর মধ্যেই তুমুল তর্ক আর ঝগড়া শুরু হল। দু'জনেরই দাবী, আমিই আসল ভিনসেনসিও।
আসল ভিনসেনসিওকেই প্রতারক মনে করে যখন তাঁকে গারদে পুরে ফেলবার ব্যবস্থা করা হচ্ছিল তখনই এসে পড়ল আসল লুসেনসিও আর বিয়াংকা। একটু আগেই গীর্জাতে ওদের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বাবাকে দেখে লুসেনসিও তাঁর সামনে নতজানু হয়ে বলল, বাবা, তুমি আমাকে ক্ষমা কর। আশীর্বাদ কর। ভিনসেনসিও ছেলের মাথায় হাত রেখে বললেন, আমি তো সব সময়েই তোমাকে আশীর্বাদ করি, বাবা। স্বামী-স্ত্রী সুখে থাক। ঈশ্বরের কাছে এই প্রার্থনাই করছি।
বিয়াংকা নতজানু হল সিনর বাপ্তিস্তার সামনে। সেও বাবার কাছে ক্ষমা চাইল। চাইল বাবার আশীর্বাদ।
বাপ্তিস্তা জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কাকে বিয়ে করলে, মা? লুসেনসিও কোথায়?
লুসেনসিও বলল, আমিই আসল লুসেনসিও। আপনি যাকে লুসেনসিও বলে জানতেন তার নাম ত্রানিও। সে আমারই অনুচর। সে আমার নির্দেশেই লুসেনসিও সেজেছিল। আর আমি... আমি হয়েছিলাম বিয়াংকার সাহিত্যের শিক্ষক ক্যাম্বিও।
লুসেনসিও নিজের পরিচয় দেবার পর ব্রানিও নিজেও আসল কথা খুলে বলল। সব শুনে সিনর বাপ্তিস্তা তো বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন।