পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার স্থানীয় সরকার পরিষদের গঠন ও কার্যাবলি আলোচনা

ভূমিকা: পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা বলতে পাহাড়ঘেরা প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলিসম্বলিত তিনটি জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান। এই তিনটি জেলার বিভিন্ন ধরনের উপজাতীয় জনগোষ্ঠী বসবাস করে। জেলা তিনটির সার্বিক উন্নয়নের ১৯৮৯ সালের ৬ মার্চ পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ আইন পাস হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার স্থানীয় সরকার পরিষদের গঠন ও কার্যাবলি আলোচনা
পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার স্থানীয় সরকার পরিষদের গঠন ও কার্যাবলি আলোচনা

পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ গঠনঃ 

উপজাতীয় জনগণের সর্বাঙ্গীন উন্নতি শাসনব্যবস্থার সামগ্রিক কাঠামোর মধ্যে তিশয় এলাকা হিসেবে পার্বত্য এলাকাকে চিহ্নিত করে এখানকার প্রশাসন ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে উপজাতীয়দের প্রাধান্য অক্ষুন্ন রাখা এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার জন্য পার্বত্য জেলা ভূদীয় সরকার পরিষদ গঠন করা হয়েছে। একজন চেয়ারম্যান ও এরিষ্ট সংখ্যক সদস্য নিয়ে স্থানীয় সরকার পরিষদ গঠিত হবে। সারম্যান উপজাতীয়দের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন। তবে সদস্যদের মধ্যে উপজাতীয় এবং অ-উপজাতীয় সদস্য থাকবেন। পর্বতা এলাকার তিনটি স্থানীয় পরিষদের কার্যকাল হবে প্রথম অধিবেশনের তারিখ হতে তিন বছর। পরিষদের সব সভায় চেয়ারম্যান সভাপতিত্ব করবেন। পরিষদের সদস্যগণ ও চেয়ারম্যান রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা বলে গণ্য হবেন। ডেপুটি কমিশনার অর্থাৎ জেলা প্রশাসক পদাধিকার বলে পরিষদের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ১৯৮৯ সালের ২৫ জুন তিনটি পার্বত্য জেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ গঠিত হয়।

রাঙ্গামাটি জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ চেয়ারম্যান একজন উপজাতীয়দের গোত্রের ভোটারদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত।

উপজাতীয় সদস্যঃ ২০ জন উপজাতীয়দের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত।

অ-উপজাতীয়ঃ ১০ জন অ-উপজাতীয়দের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত।

সর্বমোট ৩১ জন সদস্য নিয়ে রাঙ্গামাটি জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ গঠিত। উপজাতীয় সদস্যদের নিম্নরূপে বণ্টন করা হয়েছে।

১. চাকমা গোত্রের ১০ জন
২. মারমা গোত্রের ৮ জন
৩. অচংগা গোত্রের ২ জন
৪. ত্রিপুরা গোত্রের ১ জন
৫. লুসাই গোত্রের ১ জন
৬. পংখু গোত্রের ১ জন ও
৭. খেয়াং গোত্রের ১ জন।

পরিষদের কার্যকাল তিন বছর। রাঙ্গামাটি জেলার জেলা প্রশাষক পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।

খাগড়াছড়ি জেলার স্থানীয় সরকার পরিষদঃ চেয়ারম্যান ১ জন। উপজাতীয়দের ভোটে নির্বাচিত।

উপজাতীয় সদস্যঃ ২১ জন। উপজাতীয়দের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত।

অ-উপজাতীয় সদস্যঃ ৯ জন।

মোট ৩১ জন সদস্য নিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা স্থানীয় সরকার গঠিত। উপজাতীয় সদস্য নিম্নরূপে বণ্টন করা হয়েছে।

১. চাকমা গোত্রের ৯ জন
২. ত্রিপুরা গোত্রের ৬ জন ও
৩. মারমা গোত্রের ৬ জন।

পরিষদের কার্যকাল ৩ বছর। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক পরিষদের সচিব হিসেবে দায়িত্বরত।

বান্দরবান জেলার স্থানীয় সরকার পরিষদঃ চেয়ারম্যান ১ জন। উপজাতীয়দের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত।

উপজাতীয় সদস্যঃ ১৯ জন। উপজাতীয়দের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত।

অ-উপজাতীয় সদস্যঃ ১১ জন। প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত।

সর্বমোট ৩১ জন সদস্য নিয়ে বান্দরবান জেলার স্থানীয় সরকার পরিষদ গঠিত। উপ-জাতীয় সদস্যদের নিম্নরূপে বণ্টন করা হয়েছে।

১. মারমা ও খেয়াং গোত্রের ১০ জন
২. মারো গোত্র ৩ জন
৩. ত্রিপুরা ও উচাই গোত্র ১ জন
৪. তনচংগা গোত্র ১ জন
৫. বোম লুসাই ও পাংখু গোত্র ১ জন
৬, চাকমা গোত্র ১ জন
৭. খাসি গোত্র ১ জন ও 
৮. চক গোত্র ১ জন।

বান্দরবান জেলার জেলা প্রশাসক পরিষদের সদস্য সচিব দায়িত্ব পালন করবেন। পরিষদের কার্যকাল ৩ বছর।

স্থানীয় পরিষদের কার্যাবলি: স্থানীয় সরকার পরিষদের কাজ হলো

১. আইনশৃঙ্খলার উন্নতি: জেলার শান্তির জন্য ও জনগণের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা সংরক্ষণ ও তার উন্নতি বিধান করা।

. শিক্ষার উন্নয়ন: জেলার শিক্ষার মান উন্নয়ন শিক্ষা ক্ষেত্রে সব ধরনের সাহায্য, লাইব্রেরির উন্নতি ইত্যাদি বিষয়ে স্থানীয় পরিষদ ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।

৩. স্বাস্থ্যরক্ষার ক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণঃ জেলার জনগণের স্বাস্থ্য সচেতন ও স্বাস্থ্যরক্ষার ক্ষেত্রে স্থানীয় পরিষদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

৪. কৃষি ও বন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নঃ কৃষি ও বন উন্নয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করে আসছে। আর এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার অনেক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

৫. পশুপালন ও মৎস্য সদস্যদের উন্নয়নঃ পশুপালন করার ক্ষেত্রেও মৎস্য চাষ করার ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার অনেক ধরনের সাহায্য করে থাকে।

৬. সমাজকল্যাণমূলক কাজ সম্পাদনঃ পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ পার্বত্য অঞ্চলের সমাজের উন্নয়নের জন্য নানামুখী পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়ন করে থাকে। রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট উন্নয়নে জেলা পরিষদ ব্যাপকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

উপসংহারঃ পরিশেষে বলা যায় যে, পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার স্থানীয় সরকার পরিষদগুলো তাদের ব্যাপক উন্নয়নমুখী ও জনকল্যাণমুখী কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক উন্নতি ও অগ্রগতির পেছনে পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর অবদান অনস্বীকার্য তাছাড়া পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ উপজাতীয় জনগণের সর্বাঙ্গীন উন্নতির জন্য কাজ করে থাকে।

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url