১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে ভারত উপমহাদেশ দ্বিধাবিভক্ত হয়ে দুইটি রাষ্ট্র গঠনের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক কারণ সম্পর্কে আলোচনা কর
১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইনের মাধ্যমে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে। এ আইনের বলেই ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারতের জন্ম হয়। ভারতবর্ষের হিন্দু-মুসলিম তথা কংগ্রেম ও মুসলিম লীগের সাম্প্রদায়িক বিরোধ ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা ভারত বিভক্তির মূল কারণ। মূলত কংগ্রেসের মাত্রাতিরিক্ত অন্ধের মতো হিন্দু ঘেঁষানীতিই ভারত বিভক্তিকে অনিবার্য করে তুলেছিল।
![]() |
১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে ভারত উপমহাদেশ দ্বিধাবিভক্ত হয়ে দুইটি রাষ্ট্র গঠনের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক কারণ সম্পর্কে আলোচনা কর |
ভারত বিভক্তির ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক কারণ:
নিম্নে ভারত বিভক্তির ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক কারণসমূহ আলোচনা করা হলো:
ক) ঐতিহাসিক কারণ:
নিম্নে ভারত উপমহাদেশ দ্বিধাবিভক্ত হয়ে দুইটি রাষ্ট্র গঠনের ঐতিহাসিক কারণ আলোচনা করা হলো:
১. চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত:
লর্ড কর্ণওয়ালিস ১৭৮৬ সালে গভর্নর জেনারেল হয়ে ভারতে আসেন। তিনি এসেই বাংলার ভূমি সংস্কারে মনোনিবেশ করেন এবং ১৭৮৯ সালে জমিদারদের সাথে দশসালা বন্দোবস্ত করেন। সাথে সাথে এ প্রতিশ্রুতি দেন যে, কোম্পানির ডাইরেক্টর সভার অনুমোদন লাভ করা সম্ভব হলে দশসালা বন্দোবস্তকেই চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে পরিণত করা হবে। এ ঘোষণার প্রেক্ষিতেই তিনি ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ব্যবস্থা করেন। ফলে জমিদারগণ চিরদিনের জন্য এবং বংশানুক্রমিকভাবে জমির মালিক হয়ে যান। এ সময় রাজস্ব বিভাগের অধিকাংশ হিন্দু কর্মচারীরাই জমিদারে পরিণত হয়। অপরদিকে কৃষকদের অধিকাংশই ছিল মুসলমান। হিন্দু নায়েব, গোমস্তা ও হিন্দু জমিদারদের অত্যাচারে মুসলমান প্রজাদের জীবনে নেমে আসে নানা অসুবিধা ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়। ফলে বিভিন্ন স্থানে শ্রেণী দ্বন্দ্ব শুরু হয়, যা পরবর্তীতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় রূপ লাভ করে এবং এক পর্যায়ে ভারত বিভক্তিতে অনুপ্রেরণা যোগায়।
২. ফরায়েজী, ওহাবি ও বিভিন্ন সংস্কারমূলক আন্দোলন:
অত্যাচারী হিন্দু জমিদার ও ব্রিটিশ বেনিয়াদের বিরুদ্ধে প্রথমে হাজী শরিয়তউল্লাহ ও পরে দুদু মিয়ার নেতৃত্বে ফরায়েজী আন্দোলন সংগঠিত হয়। তারা মুসলমান প্রজাদের ঐক্যবদ্ধ করেন। এভাবে তিতুমীরের নেতৃত্বে ও অত্যাচারী বিভিন্ন হিন্দু জমিদারদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। এ সময় তিতুমীরের নেতৃত্বে ৮৩ হাজার কৃষক ঐক্যবদ্ধ হয়ে চব্বিশ পরগনা, নদীয়া ও ফরিদপুরের কিছু অংশ নিয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। কিন্তু ১৮৩১ সালে নারিকেলবাড়িয়ার যুদ্ধে তিতুমীর পরাজিত ও নিহত হন। অতঃপর নবাব আব্দুল লতিফ ও সৈয়দ আমির আলী বাংলার পিছিয়ে পড়া মুসলমানদের পুনর্জাগরণের জন্য চেষ্টা করেন, যা পরবর্তী সময়ে ভারত বিভক্তির অনুপ্রেরণা যোগায়।
আরও পড়ুনঃ অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর: দলীয় ব্যবস্থার তুলনামূলক অধ্যায়ন
৩. বঙ্গভঙ্গ:
১৮৫৭ সালের পর ব্রিটিশ সরকার সরাসরি ভারতের উপর তাদের শাসন প্রতিষ্ঠা করে। কিন্তু বাংলার মুসলমানদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয় না। বাংলা বিশাল প্রদেশ হওয়ায় প্রধানত প্রশাসনিক সুবিধার্থে এবং ব্রিটিশদের 'ভাগ কর এবং শাসন কর' নীতির কারণে বাংলাকে বিভক্ত করে মুসলিম অধ্যুষিত পূর্ববাংলা ও আসামকে নিয়ে একটি পৃথক প্রদেশ গঠন করা হয়। তাতে যেমন মুসলমানগণ খুশি হয়, তাদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ জেগে উঠে, তেমনি হিন্দু সম্প্রদায় এর ঘোরবিরোধিতা করে। জাতীয়তাবাদী হিন্দু নেতৃবৃন্দ বঙ্গ বিভাগকে মাতৃভূমির অঙ্গচ্ছেদ মনে করে এর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন শুরু করে। তাতে হিন্দু মুসলমানদের সম্প্রীতি বিনষ্ট হয়। বাংলার বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংঘটিত হয়। এক পর্যায়ে ব্রিটিশ সরকার তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে বাংলাকে পূর্বের ন্যায় একত্রিত করে দেয়। মুসলমানগণ বুঝতে পারে হিন্দুদের দ্বারা কখনো মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষা হবে না। তাই মুসলমানগণ ক্রমান্বয়ে পৃথক রাষ্ট্র গঠনের দিকে এগিয়ে যায়। যা ভারত বিভক্তির অন্যতম কারণ।
৪. অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনের ব্যর্থতা
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর তুরস্কের খিলাফতকে রক্ষা করার জন্য ভারতবর্ষের মুসলমানরা ১৯১৯ সালে খিলাফত আন্দোলন শুরু করে। এ সময় গান্ধীজি মুসলমানদের সমর্থনে ও স্বরাজ অর্জনের জন্য অহিংস অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেন। কিন্তু সরকারি দমননীতির কারণে অহিংস আন্দোলন ভারতের বিভিন্ন স্থানে হিংসাত্মক আন্দোলনের রূপ পরিগ্রহ করলে গান্ধীজি অসহযোগ আন্দোলন বন্ধের ডাক দেন। ফলে খিলাফত আন্দোলন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে এবং তা স্তিমিত হয়ে যায়। ফলে উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে দাঙ্গা-হাঙ্গামা দেখা দেয়।
৫. জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব ঘোষণা:
১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক আইনসভার নির্বাচনে কংগ্রেস ছয়টি প্রদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং সরকার গঠন করে। এসব প্রদেশের কংগ্রেস শাসকগণ সাম্প্রদায়িক মনোভাব নিয়ে শাসনকার্য পরিচালনা করতে শুরু করে। আইন-আদালত ও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোতে কংগ্রেসি পতাকা উত্তোলন এবং বন্দেমাতরম সঙ্গীত পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে বাংলাসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হয়। এরূপ অবস্থায় মুসলমান নেতৃবৃন্দ নিজেদের ভাগ্য সম্পর্কে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু করে। ফলে ১৯৩৯ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ তার বিখ্যাত দ্বিজাতি তত্ত্ব ঘোষণা করেন। এর মূলকথা হলো মুসলমানগণ ভারতের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নয়; বরং হিন্দু-মুসলিম ভারতের দুটি স্বতন্ত্র জাতি। তাই মুসলমানদের একটি পৃথক স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র থাকতে হবে। এ উক্তির মাধ্যমে জিন্নাহ বাংলাকে বিভক্ত করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বৃহৎ মুসলিম জনসংখ্যা অধ্যুষিত এলাকার সাথে যুক্ত একটি মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দেন। এর ফলে বাংলার নির্যাতিত মুসলমানগণ আশান্বিত হয়ে উঠে।
৬. লাহোর প্রস্তাব:
১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জিন্নাহর 'দ্বিজাতি তত্ত্বের' আলোকে ভারতবর্ষে পৃথক মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব গৃহীত হয়। অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। ২৪ মার্চ প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। এ প্রস্তাবের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল এই যে, ভারতের উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্বভাগের মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলগুলোকে নিয়ে 'স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' গঠন করতে হবে। ১৯৪৬ সালের ৯ এপ্রিল দিল্লিতে আইনসভার মুসলিম লীগ সদস্যের একটি বিশেষ কনভেনশনে 'একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ' কথাটি সংশোধন করে 'এটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র' গঠনের প্রস্তাব গৃহীত হয়।
খ) রাজনৈতিক কারণ:
নিম্নে ভারত উপমহাদেশ দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে দুটি রাষ্ট্র গঠনের রাজনৈতিক কারণ আলোচনা করা হলো:
১. কংগ্রেসের জন্ম ও হিন্দুঘেঁষা নীতি:
১৮৮৫ সালে সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের দাবি-দাওয়া ও স্বার্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কংগ্রেস মুসলমানদের স্বার্থ উপেক্ষা করে শুধুমাত্র হিন্দুদের স্বার্থরক্ষায় নিজেকে নিয়োজিত করে। এমনকি কংগ্রেস ব্রিটিশ ভারতীয় সরকারের নিকট মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করতে থাকে। ফলে ভারতবর্ষের মুসলমানরা নিজেদের একটি স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে ভাবতে থাকে এবং নিজেদের ভাগ্যোন্নয়নে সচেষ্ট হয়।
২. মুসলিম লীগ গঠন ও স্বতন্ত্র পন্থা অবলম্বন
কংগ্রেসের হিন্দু ঘেঁষানীতি এবং উগ্র হিন্দুদের বিরোধিতা মোকাবিলা করার জন্য এবং মুসলমানদের অধিকার আদায়ের উদ্দেশ্যে ১৯০৬ সালে ঢাকায় 'সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ' গঠন করা হয়। মুসলিম লীগের দাবির মুখে ১৯০৯ সালে মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইনে মুসলমানদের পৃথক নির্বাচনের অধিকার দেওয়া হলে এবারও কংগ্রেস এবং হিন্দুসভা এর তীব্র বিরোধিতা করে।
৩. ক্রিপস মিশনে পাকিস্তান সৃষ্টির ইঙ্গিত:
১৯৪২ সালের এপ্রিল মাসে ব্রিটিশ কেবিনেট মন্ত্রী স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস ভারতে সংবিধান সম্পর্কে ব্রিটিশ সরকারের কয়েকটি প্রস্তাব নিয়ে ভারতে আসেন। এসব প্রস্তাবের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থার উল্লেখ ছিল। যাহোক ক্রিপস মিশন ব্যর্থ হলেও এর প্রস্তাবে ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র হতে আলাদা থেকে পৃথক যুক্তরাষ্ট্র গঠনে বিভিন্ন প্রদেশের অধিকার প্রথমবারের মতো স্বীকৃত হয়। এতে পাকিস্তান গঠনের পথে অগ্রগতি হয়।
৪. গান্ধী-জিন্নাহ আলোচনার ব্যর্থতা
১৯৪৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাজা গোপালাচারীর মধ্যস্থতায় গান্ধী-জিন্নাহ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এ আলোচনা ব্যর্থ হয়। কারণ জিন্নাহ-গান্ধীর মৌলিক মতপার্থক্য নিরসন করা সম্ভব হয় নি। গান্ধী ভারত অখণ্ড রাখতে চান আর জিন্নাহ লাহোর প্রস্তাব মতো ভারত বিভাগ করে পাকিস্তান সৃষ্টির দাবি জানান। তবে সর্দার বল্লভ-ভাই প্যাটেল-ধর্মের ভিত্তিতে দেশ বিভাগের পক্ষে মত দেন।
৫. ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা:
১৯৪৬ সালে হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-ভারত বিভাগের অনিবার্য পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্রিটিশ সরকার 'অন্তর্বর্তীকালীন' সরকার গঠন স্থগিত রেখে ১৯৪৬ সালের ২৯ জুন একটি 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার' গঠন করে। ফলে মুসলিম লীগ ব্রিটিশ সরকারকে ওয়াদা ভঙ্গকারী বলে সমালোচনা করে এবং মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা থেকে সম্মতি প্রত্যাহার করে নেয়। কংগ্রেস এ সুযোগে 'অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে' যোগদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এরূপ পরিস্থিতিতে মুসলিম লীগ ১৬ আগস্ট 'প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস' পালনের আহ্বান জানায়। এ দিন লীগ সমগ্র ভারতে হরতাল, বিক্ষোভ ও সভা-সমিতির আয়োজন করে। উক্ত দিনে কলকাতায় মুসলিম লীগ এক বিশাল জনসভার আয়োজন করে। কিন্তু লক্ষ মুসলিম জনতার এ জনসভা কংগ্রেসের ছত্রছায়ায় হিন্দু জনতার রুদ্ররোষের কারণে পণ্ড হয়ে যায়। শুরু হয় প্রত্যক্ষ দাঙ্গা-হাঙ্গামা। কলকাতা, বিহার, ত্রিপুরা, যুক্তপ্রদেশ, পাঞ্জাব এমনকি নোয়াখালীতে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, নারী ধর্ষণসহ পৈশাচিক তাণ্ডবে সমগ্র ভারতবর্ষ কেঁপে উঠে। হাজার হাজার লোক প্রাণ হারায়। মৃত মানুষের স্তূপ বাড়ির দোতলার মেঝে পর্যন্ত উঁচু হয়ে উঠে। ড্রেনগুলোতে রক্তের স্রোত নামে, দাঙ্গায় চার হাজারেরও বেশি লোক নিহত হয়। সুসভ্য ইংরেজ জাতি এ ধরনের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা দেখে হতচকিত হয়ে পড়ে। দাঙ্গার ভয়াবহতা ও বিস্তৃতি লক্ষ করে ইংরেজ সরকার অনুধাবন করেন যে, ভারত বিভাগ ছাড়া এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
আরও পড়ুনঃ মাস্টার্স ফাইনাল রাষ্ট্রবিজ্ঞান: সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
৬. এটলির ফেব্রুয়ারি ঘোষণা:
ভারতবর্ষে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় আইন-শৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি ঘটলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সি. আ. এটলি ১৯৪৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ভারতের ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পর্কে এক বিবৃতি দেন যা 'ফেব্রুয়ারি ঘোষণা' নামে পরিচিত। এ বিবৃতিতে ঘোষণা করা হয় যে, বর্তমান অনিশ্চিত পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপদসংকুল। তাই এ পরিস্থিতি আর চলতে দেওয়া যায় না। ১৯৪৮ সালের জুন মাসের মধ্যে দায়িত্বশীল ভারতীয়দের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। ক্ষমতা হস্তান্তরের সময়সীমা বেধে দেওয়ার সাথে সাথে ভারতের নতুন ভাইসরয় হিসেবে লর্ড ওয়াভেলের স্থলে লর্ড মাউন্ট ব্যাটেনকে নিয়োগ করা হয়। 'ফেব্রুয়ারি ঘোষণার' পর কংগ্রেসের সাথে মুসলিম লীগের আর কোনো আপসরফা গড়ে উঠে নি।
সবশেষেঃ
পরিশেষে বলা যায় যে, ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির মধ্য দিয়ে উপমহাদেশের জনগণের কৃষ্টি, সভ্যতা, সাহিত্য, জীবনযাত্রা ও রাজনৈতিক চিন্তাধারায় সূচিত হয় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন। ইতিহাসের গতিপথ ধরে নব নব আশা-আকাঙ্ক্ষা ও উদ্দীপনা নিয়ে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করে উপমহাদেশের এ দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। শুভসূচনা হয় উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আর একটি নতুন অধ্যায়ের। দেশ দুটিকে স্বাধীনতার স্বাদ পাইয়ে দেওয়ার জন্য যারা অবিরাম আন্দোলন-সংগ্রাম পরিচালনা করে ইতিহাসে অমরত্ব লাভ করেছেন তারা হলেন মোহাম্মদ আলী, নেহেরু, সর্দার প্যাটেল প্রমুখ।